গত বছরে টালিগঞ্জে ফেডারেশনের সঙ্গে বেশ কিছু অভিনেতা ও পরিচালকের সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাবও যথেষ্ট পড়েছিল বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রিতে। আর এই সব কিছুর মধ্যে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে দেবের ‘রঘু ডাকাত’-এর পর আর কোনও ছবিতে দেখা যায়নি। তিনি একটা সময় জানিয়েছিলেন তাঁর হাতে কোনও কাজ নেই। কেউ কিছু অফারও করেনি তাঁকে। এবার অনির্বাণের দিকটা বিবেচনা করে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে অনুরোধ জানান অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেব। পাশাপাশি তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের প্রসঙ্গ টানেন। এবার দেবের মন্তব্যে মুখ খুললেন স্বরূপ?
স্বরূপ বিশ্বাস আজকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দেব কী বলেছেন আমি জানি না। উনি ওঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য করেছেন। আমরা আগে শুনি, তারপর মন্তব্য করব। অনির্বাণ কাজে ফিরবেন কি না, সেই নিয়ে কিছু বলতে হলে ফেডারেশন থেকে বলা হবে। তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’
প্রসঙ্গত দেব কে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমি অনুরোধ করব যদি ক্ষমা চাইতে হয় অনির্বাণকে তাহলে আমি ওঁর হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি ক্ষমা চেয়ে বলছি যে, দয়া করে অনির্বাণকে কাজ করতে দিন। এমন একজন অভিনেতাকে বাংলার দরকার। বাংলায় ওঁর অনেক অবদান বাকি আছে। আমি অনুরোধ করব মমতা বন্দোপাধ্যায় দিদিকে ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে যাঁরা বাংলাকে এত দিন ধরে আগলে রেখেছেন, তাঁরা এই ব্যাপারটা একটু দেখুন। অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসকে বলুন।’
টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার অঘোষিত সম্রাট, ফেডারেশন প্রধান স্বরূপ বিশ্বাস। শোনা যাচ্ছিল তাঁর ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ উড়িয়ে দিয়ে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিজের আসন্ন ছবিতে নিতে চলেছেন দেব। দীর্ঘ বিরতির পর এই ছবিতে দেবের বিপরীতে দেখা যাবে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে (দেশু জুটি), আর সেখানেই নাকি খলনায়ক অনির্বাণ। এবার তা নিয়েও মুখ খোলেন দেব।

তিনি বলেন, ‘দেশু ৭’-এ ও থাকবে কিনা আমি জানি না। কারণ আমাদের চিত্রনাট্য অনুসারে ওঁকে যে চরিত্রে রাখা হবে সেটা যদি ওঁকে নিয়ে মনে হয় যে মিস ইউজ হয়ে গেল তাহলে আমার খারাপ লাগবে। কিন্তু আমি অবশ্যই চাই অনির্বাণ কাজ করুক। ভোটের সময় যখন এডি, সিবিআই আসে, তখন আমরা সকলে একসঙ্গে লেগে থাকি যে এটা তো খারাপ হচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের রাজ্যের একজন অভিনেতা ৬মাস ধরে ব্যান হয়ে আছেন সেটাও অন্যায়। দিদি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উপরেই তো আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রি বেঁচে আছে। আর তিনি সব সময় ইন্ড্রাস্ট্রির পাশে থেকেছেন। অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কেও বলব এই বিষয়টা একটু দেখতে। যে সমস্ত অভিনেতারা ব্যান হয়ে আছেন তাঁদের দিকটা দেখতে। টেকনিশিয়ানদের দিকটাও দেখতে। আমার কর্মজীবনের যখন ২০ বছর হল আমি টেকনিশিয়ানদেরও মঞ্চে তুলে সম্বর্ধনা জানিয়েছি। আমার সরি বলতে সমস্যা নেই। কিন্তু একটা ছেলে এতদিন ধরে ব্যান হয়ে আছে। ব্যাঙ্কে যদি ৪০টাকা থাকে আর খরচ যদি হয় ৫০টাকা তাহলে কীভাবে চলবে।’