মাঝ আকাশে তখন উড়ান মাঝপথে, আচমকাই হুলস্থুল পড়ে গেল যাত্রীদের মধ্যে। বিমানের শৌচাগারের একটি টিস্যু পেপারে লেখা রয়েছে— ‘বিমানে বোমা রাখা আছে।’ এই চিরকুট মেলা মাত্রই আর ঝুঁকি নেননি পাইলট। দিল্লি থেকে বাগডোগরাগামী ইন্ডিগোর (IndiGo) একটি যাত্রীবাহী বিমানকে জরুরি অবতরণ করানো হলো লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
কী ঘটেছিল? ইন্ডিগো সূত্রের খবর, ৬ই ৬১৬৭ (6E 6167) নম্বর ফ্লাইটটি রবিবার সকালে দিল্লি থেকে বাগডোগরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। মাঝ আকাশে জনৈক এক যাত্রী শৌচাগারে গিয়ে ওই চিরকুটটি দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিমানকর্মীদের বিষয়টি জানান। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিমানের ভেতর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পাইলট নিকটবর্তী লখনউ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত অবতরণের অনুমতি চান।
লখনউ বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করার আগেই সেখানে পৌঁছে যায় বম্ব স্কোয়াড, দমকল এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিমানটিকে একটি নিরাপদ ‘আইসোলেশন বে’-তে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি ভিত্তিতে নামিয়ে আনা হয় ১৮০ জনেরও বেশি যাত্রীকে। তাঁদের মালপত্র থেকে শুরু করে বিমানের প্রতিটি কোণ তল্লাশি চালানো হয়।
প্রাথমিক তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি ঠিকই, তবে এই চিরকুট কে বা কারা রেখেছে তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। সন্দেহভাজন কয়েকজন যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লখনউ বিমানবন্দরের এক আধিকারিক জানান, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি নিছকই কোনো মশকরা নাকি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।’

এই ঘটনায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন বাগডোগরাগামী যাত্রীরা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলার কারণে লখনউ বিমানবন্দরেই আটকে থাকতে হয় তাঁদের। ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পরেই বিমানটিকে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করানোর ব্যবস্থা করা হবে। সাম্প্রতিককালে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোতে ভুয়ো বোমাতঙ্কের হিড়িক পড়েছে। তবে প্রতিবারই নিয়ম মেনে কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থার পথে হাঁটছে প্রশাসন। এ দিনের ঘটনাটি সেই আতঙ্কের তালিকায় নতুন সংযোজন।