আলিপুরদুয়ারের দুই গ্রামজুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের চারজন। একই উপসর্গে আরও অন্তত আটজন চিকিৎসাধীন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা মনে করছেন, এক প্রকার মারণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণেই এই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে। যা ঘিরে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঘটনাস্থল আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকের মাঝেরডাবরি ও পদ্মেরপাড় গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিন কয়েক আগে এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আচমকা পেটের অসুখ ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। একে একে চারজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে।মৃতদের মধ্যে রয়েছেন, বলরাম খড়িয়া। তিনি দক্ষিণ মাঝেরডাবরির বাসিন্দা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ভাই প্রসেনজিৎ খড়িয়া, মৃত্যু ২৪ সেপ্টেম্বর।আত্মীয় বুধনি সোরেন ও তাঁর ছেলে মংলা সোরেন। তাঁরা পদ্মেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃতরা সকলেই তীব্র ডায়ারিয়া ও বমির সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও আত্মীয়র মৃত্যুর পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে ওই দুই গ্রামের আরও আটজনকে ভর্তি করা হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালে। তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। মৃত ও অসুস্থদের মলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। সকলকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সেদ্ধ জল পান করা ও খাবারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই মাঝেরডাবরি ও পদ্মেরপাড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের দল ইতিমধ্যেই এলাকায় গিয়ে জল ও খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করেছে। গ্রামজুড়ে এখন আতঙ্কের ছায়া। চারজনের মৃত্যু এবং পরপর একাধিক অসুস্থতার খবর এলাকাবাসীর মনে তৈরি করেছে আশঙ্কা।