কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলে সিরিয়ার ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প প্রশাসানের হুমকি উপেক্ষা করেই একের পর এক কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকা নিজেদের দখলে নিচ্ছে সিরীয় বাহিনী। এরইমধ্যে এসডিএফের কাছ থেকে দেশটির উত্তরাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবকা শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা।কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স- এসডিএফের দখলে থাকা বিভিন্ন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, এসডিএফের কাছ থেকে দেশটির উত্তরাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবকা শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান বন্ধের আহ্বান উপেক্ষা করে এই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সিরীয় সেনাবাহিনী। দেইর এজ-জোরের পূর্বাঞ্চলে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যেই সেখানকার একটি গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। এছাড়া, জাররাহ বিমানঘাঁটি ও দেইর হাফের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করেছে তারা।
সেসব এলাকায় পুঁতে রাখা মাইন ও বিস্ফোরক অপসারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযান সিরিয়াকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এসডিএফ-এর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু হলে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে দামেস্কের বিরুদ্ধে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানোর মধ্যেই সিরিয়ায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গেল শুক্রবার দেশটির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে প্রাণঘাতী এ হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলায় আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত শীর্ষ নেতা বিলাল হাসান আল-জাসিম নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড- সেন্টকম।
গত মাসে মার্কিন সেনাদের ওপর আইএসের হামলার সঙ্গে ওই ব্যক্তি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে জানিয়েছে সেন্টকম। যেখানে দুই মার্কিন সেনা ও এক মার্কিন দোভাষী প্রাণ হারান।