মালাবদলের সময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বিজেপি নেতার

Spread the love

২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে সরগরম রাজ্যরাজনীতি। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই প্রেমের জোয়ারে ভেসে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ালেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচি। আইনি বিয়েটা সেরেছিলেন গত বছর ডিসেম্বরে। বর্ষপূর্তির আগেই সামাজিক বিয়েটা সেরে নিলেন কৌস্তভ।

রেজিস্ট্রি ম্যারেজের পর এবার ছাতনা তলায় মালাবদল সেরে, সিঁদুরদান সুসম্পন্ন। হিন্দু রীতিনীতি মেনে বুধবার রাতে চার হাত এক হল কৌস্তভ-প্রীতির। হ্যাঁ, কৌস্তভের সহধর্মিণীর নাম প্রীতি কর বাগচি। দীর্ঘদিনের প্রেম দুজনের। ১২ বছরের প্রেম সম্পর্কে পরিণতি পায় গত বছর। আর এই বছর অগ্রহায়ণের সন্ধ্যায় প্রজাপতি ঋষিকে সাক্ষী রেখে শুভকাজটা সুসম্পন্ন করে ফেললেন দুজনে। কৌস্তভের মতোই তাঁর স্ত্রীও পেশায় আইনজীবী। হাইকোর্টে প্র্যাক্টিস করেন প্রীতি। রাজনীতির সঙ্গে অবশ্য় কোনও যোগ নেই তাঁর। কিন্তু সবসময় সঙ্গীর পাশে আছেন।

খাঁটি বাঙালি সাজেই বিয়ের আসরে পাওয়া গেল বর-কনেকে। লাল বেনারসিতে টুকটুকে লাগল কৌস্তভ ঘরণীকে। মাথায় শোলার মুকুট, গা-ভর্তি সোনার গয়না। চন্দন-চর্চিত কপাল। কৌস্তভের পরানো লাল সিঁদুরে সীমন্তিনী প্রীতি। বিয়েতে গেরুয়া নয়, চারিদিকে লালেরই ছড়াছড়ি। কারণ লাল রং বড্ড প্রিয় কৌস্তভ ঘরণীর। এদিন ধুতি-পাঞ্জাবিতে সেজেছিলেন কৌস্তভ। বিয়ে সারলেন জোর পরে। শ্রীরামপুরে বসেছিল বিয়ের আসর। এলাহি আয়োজন নয়, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশেই হল বিয়ে।

এদিন মাথাবদলের সময় বর-কনের বিয়ের পিঁড়ি চাগানোর পরই ঘটল অবাক কাণ্ড! জয় শ্রীরাম বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন কৌস্তভ। বললেন-‘ভারত মাতা কি জয়’। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্য়ালে।

২০২২ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর প্রতিজ্ঞা করে মাথা মুড়িয়েছিলেন কৌস্তভ। এদিন ন্যাড়া মাথাতেই টোপর পরে বিয়ে করলেন। সেই নিয়ে অবশ্য় কোনও আফসোস নেই কৌস্তভ বা প্রীতির। কংগ্রেসে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি কৌস্তভের। তারপর দল বদলে পদ্ম-শিবিরে যোগ দেন। ভালোবাসার নতুন অধ্যায়ে পা দিলেন বিজেপি নেতা। কিন্তু আমোদ-প্রোমোদের অবকাশ নেই তাঁর হাতে। বিয়ের জন্য মাত্র ৫-৬ দিনের ছুটিই নিয়েছেন দল থেকে। বিয়ের পর্ব সেরে ঘুরতে যাওয়ার ফুরসৎ নেই, বরং কোমর বেঁধে নেমে পড়তে হবে রাজনীতির ময়দানে। ২০২৬-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মসনদ থেকে হঠানোই কৌস্তভের একমাত্র লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *