সুপ্রিম রায়ে বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার চাকরি। আগামী ৩ মাসের মধ্যে নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়াjA নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ঠিক কী বললেন রুদ্রনীল ঘোষ?
রুদ্রনীল বলেন, ‘এই যে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হল, আমরা এটা আন্দাজ করেছিলাম, আর সেটাই হল। কারণ, প্রশাসন দুর্নীতি করেছে। কিছু অযোগ্য লোক তৃণমূল নেতাদের ঘুষ দিয়ে সাদা খাতা জমা দিল, আর অবৈধভাবে তাঁদের চাকরি দিয়ে তৃণমূল সরকার তাঁদের বাঁচাবার জন্য যাঁরা যোগ্য ছেলেমেয়ে, যাঁরা দরিদ্র বাড়ি থেকে পড়াশোনা করেছেন তাঁদের সর্বনাশ করল। ২৬ হাজার এই যে চাকরি যে বাতিল হল, এই দায় একেবারেই এড়িয়ে যেতে পারেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উনি যে অর্থের জন্য, ভোটের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন কীভাবে মানুষের সর্বনাশ করতে পারেন, তার প্রকৃত উদাহরণ বেরিয়ে এল। এর আগে হাইকোর্ট চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছিল। সেই নির্দেশকে কাজে লাগাতে যাতে দেরি হয়, সেজন্য যাওয়া হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। নানান বাহানায় এই অপরাধী, অযোগ্য রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ট্যাক্সের টাকা থেকে উকিলদের কোটি কোটি টাকা দিয়ে ইচ্ছা করে সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়াকে ঝোলাচ্ছিলেন। তাঁরাও কিন্তু জানতেন, যে এই দুর্নীতি একদিন সামনে আসবেই। তাই ২০২৪-এর নির্বাচনের আগে যে রায় বেরিয়ে যেত, সেটাকে তৃণমূল কোটি টাকায় আইনজীবী মারফৎ দেরি করালেন। কিন্তু কথায় আছে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। সত্যি চাপা থাকে না।’
রুদ্রনীল ঘোষ আরও বলেন, ‘আরও একটা বিষয় যে আমাদের বিচার ব্যবস্থায় দেরিতে হলেও রায় এল। কারণ, কোনও নির্দোষ যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন সেই জন্যই বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, যে যোগ্য-অযোগ্যের তালিকা দিন। তবে তৃণমূল তো লোকাল নেতামন্ত্রী মারফত পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে অযোগ্যদের কাছে টাকা নিয়ে সেই টাকা খেয়ে ফেলেছে। সেই টাকা আর ফেরত দিতে তারা পারবে না। টাকা খরচ হয়ে গেছে। আর এই অযোগ্যদের চাকরি গেলে তবেই যাঁরা ঘুষ দিয়েছেন তাঁরা তৃণমূলের গলা চেপে ধরবেন। তৃণমূলের পার্টি অফিসে আগুন জ্বলবে। কারণ তাঁরা বিশ্বাস নিয়ে খেলেছেন। কারণ, এরাঁ তো জমি-বাড়ি বিক্রি করে ঘুষের টাকা দিয়েছেন, সেটাও তো অন্যায়। তবে এরা চিহ্নিত হয়ে গেলেই তৃণমূল বিপদে পড়ে যাবে। আর এই প্রমাণটা ২০২৪ এর ভোটকে সর্বনাশ করে দিত, সে কারণেই ঝুলিয়ে রাখতে চেয়েছিল ওরা। তবে অবশেষে আসল সত্যিটা বেরিয়ে পড়ল।’
আপনি তাহলে সুপ্রিয় রায়ে খুশি?
রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘বিরোধী হলেও ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও নেতা, কোনও কর্মী খুশি হয়েও খুশি হতে পারছি না। খুশি এই কারণযে সত্যিটা বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু খারাপ লাগছে যে ২৬ হাজার ছেলেমেয়ে পশ্চিমবঙ্গের ছেলে মেয়ে, এরাজ্যে তোলাবাজির জন্য কোনও চাকরি বা শিল্প নেই। এই চাকরি যাওয়া মানেই ১ দেড় লক্ষ মানুষের পেটের ভাত চলে গেল কারণ, প্রত্যেকেরই পরিবারের অন্তত ৪-৫ জন লোক রয়েছেন। দুর্নীতিবাজদের বাঁচানোর জন্য তথ্য প্রমাণ লোপাট করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাই এই অপরাধ রাজ্য সরকার পরিচালিত। এর দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারকে নিতেই হবে। এর শাস্তি মানুষ তাঁদের দেবেন। আদালতকেও দিতে হবে। ছাড় দেওয়া হবে না।’
৩ মাসের মধ্যে নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে…
রুদ্রনীল বলেন, ‘ এই যে ২৬ হাজার শূন্যপদ তৈরি হল, সেখানে যোগ্যদের পরীক্ষার মরফত বসতে হবে, সে সেই নির্দেশ এসেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনক পুলিশ থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, কোনও জায়গাতেই নিয়োগ নেই। কারণ খেলা-মেলা ইত্যাদি করে কেন্দ্রের নানান অনুদানের টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিকল্পিতভাবে চুরি করিয়ে নিজের পার্টির পকেটে, নয় নেতাদের পকেটে নিচ্ছেন। আবাসের বাড়ি, চাল-ডাল-চাকরি এরা লুঠ করছে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারের কাছে এখন কোনও টাকাই নেই।
আমি চাইব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই সরকারের বিদায়। আর যাঁদের চাকরি গেছে, তাঁদের বলব মিছিল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে জিগ্গেস করতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী শান্তভাবে উ