বলিউড গায়ক ও সুরকার এআর রহমান তাঁর একটি বক্তব্যের কারণে সম্প্রতি খবরের শিরোনামে রয়েছেন। এআর রহমান বিশ্বাস করেন যে, সাম্প্রদায়িক কারণে এবং ক্ষমতার গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে তিনি গত ৮ বছর ধরে বলিউডে কাজ পাচ্ছেন না। এবার এআর রহমানের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কঙ্গনা রানাওয়াত।
কঙ্গনা বলেন, এআর রহমান তাঁর ঘৃণায় অন্ধ হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন যে, তিনি যখন তাঁর সিনেমা ইমার্জেন্সির জন্য তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, তখন এআর রহমান তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। কঙ্গনা রানাওয়াত তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এআর রহমানের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি বলিউডে কাজ না পাওয়ার কথা বলছেন।
কঙ্গনা রানাওয়াত লেখেন, ‘প্রিয় এআর রহমান জি, আমি গেরুয়া পার্টিকে সমর্থন করার কারণে আমাকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন বলেন এবং বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়, তবে আমি এখনও বলব যে আমি আপনার চেয়ে বেশি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ঘৃণাপূর্ণ ব্যক্তিকে কখনও দেখিনি। আমি আমার নির্দেশনায় নির্মিত ইমার্জেন্সি ছবির কথা আপনাকে বলতে চেয়েছিলাম, আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছিলেন। আমাকে বলা হয়েছিল যে আপনি কোনও প্রোপাগন্ডা সিনেমার অংশ হতে চান না।’
কঙ্গনা আরও লিখেছেন যে, ‘সমালোচকরা ইমার্জেন্সি ছবিটিকে মাস্টারপিস বলে অভিহিত করেছেন। বিরোধী নেতারা ছবিটির প্রশংসা করে ফ্যান চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনি আপনার ঘৃণার কাছে অন্ধ হয়ে গিয়েছেন। আপনার জন্য আমার খারাপ লাগছে।’পোস্টে কঙ্গনা লেখেন, ‘এআর রহমানজি, প্রত্যেকেরই নিজস্ব লড়াই আছে, সিনেমা ভুলে যান, বড় বড় ডিজাইনাররা যারা আমাকে আমার সেরা বন্ধু দাবি করে বিনামূল্যে আমায় গয়না এবং জামাকাপড় লঞ্চ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, পরে তারা আমার স্টাইলিস্টকে পোশাক পাঠাতে অস্বীকার করেছিলেন। আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়, আমার সম্পর্কে পোস্ট করা বন্ধ করে দেন।’

কঙ্গনার ইনস্টাস্টোরিতে আরও লেখা হয়, ‘একটি ঘটনা যা আমি কখনও ভুলতে পারব না, তা হল তিনি মাসাবা গুপ্তার শাড়ি পরে রাম জন্মভূমিতে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি আমার স্টাইলিস্টকে বলেছিলেন যে সেই শাড়ি পরে রাম জন্মভূমিতে যেতে পারব না আমি। ততক্ষণে আমি লখনউ থেকে অযোধ্যার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছিলাম। তখন পোশাক বদলানো আর সম্ভব ছিল না। আমি অপমানে গাড়িতে বসে চোখের জল ফেলেছিলাম। পরে তিনি আমার স্টাইলিস্টকে বলেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শাড়ির ডিজাইনার হিসেবে যাতে তার নাম না থাকে। আজ এ আর রহমান কুম্ভীরাশ্রু ফেলছেন, কিন্তু আপনার নিজের ঘৃণা ও কুসংস্কারের কী হবে’!