মোদী-ইউনুসের ৪০ মিনিটের বৈঠকে ‘আনন্দ পেয়েছে’ BNP

Spread the love

দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জল্পনার মাঝে ৪ এপ্রিল অবশেষে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)। বৈঠকে উভয় পক্ষই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিষয় থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অপরদিকে ইউনুসের তরফ থেকে শেখ হাসিনার(Sheikh Hasina) ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে মিশিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আর সেই বৈঠক নিয়ে এবার প্রতিক্রিয়া দিল বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি।

৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির দাবি করেন, মোদী-ইউনুস বৈঠকে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই আনন্দের কথা। আমরা মনে করি, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিক থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আমরা সামনে একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে একটা তিক্ততা তৈরি হয়েছে, সেটা যেন আর না বৃদ্ধি না পায়, সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমি যত দূর দেখেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে, এ ব্যাপারে দুজনেই যথেষ্ট আন্তরিক। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ও ভারতের মানুষের উপকার করবে।’

উল্লেখ্য, মোদী-ইউনুস বৈঠক নিয়ে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আটকানো নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদিকে এমন কিছু যেন না বলা হয়, যাতে উত্তেজনা বাড়ে। এদিকে বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিষয় নিয়ে তদন্তের আর্জি জানান। এদিকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টির ওপর বাংলাদেশি সরকারকে জোর দিতে আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী।’ এদিকে এই বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার। এছাড়া তিস্তা এবং গঙ্গা নিয়ে কথা হয়েছে দুই নেতার। আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকেই মোদীর সঙ্গে ইউনুসের একান্ত বৈঠকের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই বিষয়টি নিয়ে অবশ্য প্রাথমিক ভাবে ভারত সরকারের তরফ থেকে নিশ্চিত ভাবে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি ঢাকাকে। বৈঠক নিয়ে একপ্রকার ঝুলিয়েই রাখা হয়েছিল বাংলাদেশকে। এরই মাঝে ইউনুসের ‘সুর’ বদলেছিল অনেক ক্ষেত্রে। এমনকী ঢাকার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল, চিন সফরে যাওয়ার আগে ইউনুস ভারত সফরে আসতে চেয়েছিলেন। তবে সেই বিষয়ে দিল্লির তরফ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাঙ্ককে অবশেষে মুখোমুখি হলেন মোদী এবং ইউনুস। এরই মাঝে সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন ইউনুস। যদিও পরে ঢাকার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ইউনুসের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই সবের মাঝে মোদী এবং ইউনুসের এই বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *