‘বঙ্কিমদা’ বলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহার জেলার রাসমেলার মাঠে জনসভা থেকে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে মমতা বলেন যে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তারা কোথায় ছিল? কোনও অবদানই ছিল না স্বাধীনতা সংগ্রামে। সেই রেশ ধরে তিনি বলেন, ‘কাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বললেন বঙ্কিমদা। যেন মনে হচ্ছে হরিদা আর শ্যামদা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – যিনি জাতীয় গান রচনা করেছিলেন, তাঁকে এটুকু সম্মান দেবেন না? আপনাদের তো মাথানীচু করে নাকখত দেওয়া উচিত জনগণের কাছে। তাতেও ক্ষমা হবে না। আপনারা অসম্মান করেছেন দেশের ইতিহাসকে, দেশের সংস্কৃতিকে, দেশের আন্দোলনকে।’
১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ মমতার
তারইমধ্যে একশো দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টে অস্বস্তিতে পড়ার পরে রাজ্যকে ১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে মোদী সরকার। সেজন্য দিল্লি থেকে যে নোট পাঠানো হয়েছে, তাতে তিনটি ‘অপমানজনক এবং অসম্মানজনক’ শর্ত আছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেজন্য মঞ্চে দাঁড়িয়েই কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দেন। তবে সেই কাগজটি যে কেন্দ্রের পাঠানো নয়, তাও জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র যে যে শর্ত দিয়েছে, তা লিখে নিজে একটি নোট বানিয়ে এনেছিলেন। সেটাই ছিঁড়ে দিয়েছেন।
কোন তিনটি শর্ত আছে কেন্দ্রের চিঠিতে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রায় চার বছর ধরে একশো দিনের কাজ প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ রেখে দিয়েছে মোদী সরকার। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছিল। আর দু’দিন আগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে তিনটি শর্ত আছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রথম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে যে প্রতি মাসে বাজেট শ্রমবাজেট দেখাতে হবে। কিন্তু রাজ্যের হাতে সেই সময় আছে কোথায়? ইতিমধ্যে ডিসেম্বর পড়ে গিয়েছে। আর আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে যে একটি গ্রামসভায় স্রেফ ১০ কাজ করতে পারবেন। আর তৃতীয় শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে যে প্রশিক্ষণ না দিলে জমির কাজ করার অনুমতি মিলবে না।
‘অপমানজনক’ শর্ত, বললেন মমতা
আর সেই তিনটি শর্তকে ‘অপমানজনক’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রের পাঠানো চিঠির কোনও মূল্য নেই। মূল্যহীন চিঠি এটা। তবে তিনি যে কাগজটা ছিঁড়েছেন, সেটা যে কেন্দ্রের পাঠানো চিঠি নয়, সেটা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।