মোমোর নেশায় বুঁদ নাবালক। আর সেই নেশা পূরণে নিজের বাড়ি থেকেই দিনের পর দিন লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না চুরির অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছরের কিশোরের বিরুদ্ধে। গয়না গায়েব হয়ে যাওয়ার কথা যখন জানা গেল, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। মোমোর দোকান তুলে দিয়ে সমস্ত গয়না নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছেন ৩ বিক্রেতা।
এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার রামপুর কারখানা থানা এলাকায়।সেখানকার এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ির ৮৫ লক্ষ টাকার গয়না চুরির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোর ফাস্টফু়ড খেতে খুব ভালোবাসে। রাস্তার ধারের এগরোল, চাউমিন এবং মোমো তার পছন্দ। মোমোতে আসক্ত ছিল কিশোর। রামপুর কারখানা থানার সীমানার অন্তর্গত একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই নাবালক মোমোর প্রতি এতটাই আসক্ত ছিল যে, সে গোপনে বাড়ি থেকে ধীরে ধীরে সোনার গয়না চুরি করে সেগুলো স্থানীয় একটি স্টলের তিন মোমো বিক্রেতার কাছে দিচ্ছিল। অভিযোগ, ওই ৩ ব্যক্তি বিনামূল্যে মোমো খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে কিশোরকে বাড়িতে মায়ের আলমারি থেকে গয়না চুরিম করার কথা বলে। আর তাতেই প্রলুব্ধ বাড়ি থেকে গয়না চুরি করে ওই কিশোর। প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও গয়না সে আলমারি থেকে বার করে নিয়ে গিয়েছে এবং মোমো বিক্রেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে। পরিবর্তে তাকে অঢেল মোমো খেতে দিয়েছেন দোকানিরা। পুরো বিষয়টি হয়েছে পরিবারের নজরের আড়ালে।
কিন্তু সময় এগোতেই তা বুঝে যায় নাবালকের পরিবার। অভিযোগ অনুযায়ী, বারাণসীর মন্দিরের পুরোহিত বিমলেশ মিশ্র জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে মোমো খেতে খুব ভালোবাসে। সেই সুযোগ নিয়ে একটি দোকানের তিনজন মোমো বিক্রেতা তাঁর ছেলেকে প্রতারিত করেছে।বিমলেশ অভিযোগ করেন যে স্টলের বিক্রেতারা তার ছেলেকে বলেছিলেন যে যদি সে তার বাড়ি থেকে গয়না নিয়ে আসে, তাহলে তারা বিনামূল্যে মোমো খেতে দেবে। এরপর থেকে ওই কিশোর প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও গয়না নিজের বাড়ি থেকে চুরি করে ওই তিনজনের হাতে তুলে দেয়। এখন প্রশ্ন ছেলের কুকীর্তির কথা কীভাবে বুঝল তার বাবা-মা? জানা গেছে, ছেলেটির পিসি তাঁর গয়না নিতে বাপের বাড়ি আসেন। আলমারি খোলা হলে, অনেক অলঙ্কার পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে পরিবার জানতে পারে যে, ছেলেই জিনিসপত্র চুরি করে রামপুর শহরে তিন মোমো বিক্রেতার কাছে দিচ্ছিল। হতবাক পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে যান। একজন পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন যে, অভিযোগটি গৃহীত হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিস্তারিত যাচাই করছি এবং অভিযুক্তদের শীঘ্রই হেফাজতে নেওয়া হবে।’ পুলিশ এখন ওই তিনজন মোমো বিক্রেতার সন্ধান করছে এবং চুরি যাওয়া গয়নার মোট মূল্য নির্ধারণ করছে।
