বঙ্গে বেজে গিয়েছে ভোটের রণদামামা। শিয়রে ২০২৬ বিধানসভা ভোট। তার আগে আজ রাজ্যে ফের মোদী। এদিন হুগলির সিঙ্গুরে একটি সরকারি সভা করেন নরেন্দ্র মোদী। উল্লেখ্য, বহু বছর আগে, এই সিঙ্গুরেই কারখানা গড়তে উদ্যোগ নিয়েছিল টাটা গোষ্ঠী। এরপর রাজ্য রাজনীতিতে নানান পর্ব উঠে আসে। রাজ্যের বিরোধী আসনে তখন তৃণমূল। সিঙ্গুর ঘিরে আন্দোলনে নামেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, টাটা গোষ্ঠী তারা চলে যায় গুজরাটে। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬ এ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় সেই সিঙ্গুরের মাটিতে এবার পা রাখলেন নরেন্দ্র মোদী। এদিন সিঙ্গুরে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তায় উঠে আসে কর্মসংস্থার প্রসঙ্গও।
এদিন সিঙ্গুরে ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বন্দর, জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ জলপথ এবং রেলপথ জুড়ে ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পরিকাঠামো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন। এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘পশ্চিমবঙ্গের রেল যোগাযোগে ২৪ ঘণ্টার অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে। গত ১০০ বছরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এত কাজ বোধ হয় হয়নি।’ উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে তিনটি বন্দে ভারত প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোদী। তিনি বলেন,’ আমার কেন্দ্র বারাণসীর (সংসদীয় কেন্দ্র) সঙ্গে বাংলাকে’ জুড়ে দিয়েছে এই রেলপথ। তিনি বলেন,’ দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত পেয়েছে। রেল পরিষেবায় বড় প্রাপ্তি। বলাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট নয়া দিশা দেখাবে। লজিস্টিক হাব হবে। তাতে বাড়বে কর্মসংস্থান। ইলেকট্রিক কেটামেরনের ফলে জলপথে যাতায়াতে সুবিধা হবে। লগ্নি বাড়বে। বিকশিত ভারতের জন্য বিকশিত পূর্ব ভারত। কেন্দ্রের ভিশন বাংলায় লগ্নি আসবে বাংলায়।’ এদিন জয়রামবাটী–বড়গোপীনাথপুর–ময়নাপুর নতুন রেললাইনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন প্রকল্পগুলির ফলে নদী কেন্দ্রীক কাজ আরও উন্নত হবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নেও কেন্দ্র সাহায্য করছে বলে তিনি বার্তা দেন। তিনি বলেন,’ পশ্চিমবঙ্গকে ট্রেড, লজিস্টিক, উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় হাব তৈরি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, যত বন্দর সম্পর্কিত ইকো সিস্টেমে জোর দেওয়া যাবে ততই কর্মস্থান বাড়াবে।

এই সরকারি সভাস্থল থেকে নরেন্দ্র মোদী বলেন,’ ভারত বর্তমানে মৎস্যকেন্দ্রিক এবং সামুদ্রিক খাদ্যের উৎপাদন এবং রফতানিতে দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমার স্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গ এতে দেশকে নেতৃত্ব দিক।’