শুরু হয়ে গিয়েছে পবিত্র রমজান মাস। এই সময়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা নির্দিষ্ট সময়ে ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব সেরে নেন। তারপরে সারাদিন উপবাস করে থাকেন। এরপরে আবার যখন সূর্য অস্ত যায়, তখনই ফল মিষ্টি খেয়ে নিজেদের উপবাস ভঙ্গ করেন। আর এই পবিত্র রমজানে উপলক্ষে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় এক পুলিশ আধিকারিকের নয়া ফতোয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) মসিউল আজম। সে সময় তিনি ইউনিফর্মে ছিলেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিতে শুরু করেন মসিউল। বলতে থাকেন, ‘ওই যে ক্যারাম খেলছে। আমি বন্ধ করে দিয়েছি কিনা? কেন চলল? দেব বসান? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গিয়েছি না– তারাবির এক মাস কোনও ক্যারাম, কোনও টিভি চলবে না। কেন চলল?’ পরে ক্যারাম বোর্ডের দিকে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি।
ভিডিওতে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘যাই করবেন, নমাজের সময় যেন এইসব না করে। রমজান মাস, ইবাদতের মাস।’ অন্যদিকে চা বিক্রেতা রমজান বলেন, ‘আমার এখানে এই কয়েকজন লোকই বসে। তারা একটু টিভি দেখেন।’ সেই সময় ওই দোকানে আসেন স্থানীয় কাশেম মেম্বার। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন-খেলাধুলার দরকার আছে। আমাদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও মাঝেমধ্যে খেলতে আসেন। তবে টাকা দিয়ে ক্যারাম খেলা ভালো না।’ এই ঘটনার পরের দিন রাত আটটা নাগাদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। কিছু দোকান আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। বাজারের এক প্রান্তে একটি চায়ের দোকান খোলা ছিল। সেখানে টেলিভিশন চললেও ক্যারাম খেলা বন্ধ ছিল।
এ বিষয়ে এসআই মসিউল আজম বলেন, ‘এটা ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি তো কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিইনি।’ এ বিষয়ে ওপর মহলের নির্দেশ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওপরের নির্দেশেই আমরা কথা বলি। নিজে থেকে কিছু বলি নাকি!’ যদিও অধস্তনদের প্রতি এ ধরনের কোনও নির্দেশ নেই বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘ওই কর্মকর্তাকে এ ধরনের কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।’ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসীম উদ্দিনও বলেন, ‘এটা কোনও পুলিশি নির্দেশ না। রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কিনা, সেটা আইনকানুনের বিষয় না। মানুষের অনুভূতির বিষয়, মানা-না মানার বিষয়। এ জন্য আমরা তো কাউকে জেল-ফাঁসি দিতে পারব না।’
