আলোকচিত্রীদের দেখলেই মেজাজ হারানো জয়া বচ্চনের কাছে অতি সাধারণ বিষয়। পাপারাৎজিদের সাথে অভিনেত্রী জয়া বচ্চনের আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। কিছুদিন আগেই পাপারাৎজিদের পোশাক নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন বচ্চন ঘরণী। ‘নোংরা প্যান্ট’ বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই মুম্বাইয়ের এক ইভেন্টে ফের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ দেখে চোখ পাকালেন জয়া। জয়া বচ্চন এবং পরিচালক করণ জোহরকে মুম্বইয়ের এক ইভেন্টে বেশ নিবিড়ভাবে আড্ডা দিতে দেখা যায়। আর এই আড্ডার মুহূর্ত অবশ্য় নির্দ্বিধায় উঠে এল ক্য়ামেরায়।
আড্ডায় মজে জয়া-কেজো:
একটি রেড কার্পেট ইভেন্টে জয়া বচ্চন আর করণ জোহর যখন কথা বলছিলেন, পাপারাজ্জিরা অনবরত তাঁদের ছবি ক্লিক করতে থাকেন। সাধারণত এমন অবস্থায় জয়া ‘ডোন্ট ডু দিস’ বলে ধমক দেন। কিন্তু এদিন করণের উপস্থিতিতে তিনি কিছুটা শান্ত মেজাজেই ছিলেন। যদিও মাঝে একবার ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তাঁর সেই পরিচিত ‘তীক্ষ্ণ’ দৃষ্টি দিয়েছিলেন।
করণের রসিকতা:
জয়া বচ্চনের সেই চাউনি দেখে যখন পাপারাজ্জিরা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছেন, তখনই আসরে নামেন করণ জোহর। পাপারাজ্জিদের দিকে তাকিয়ে মজা করে তিনি বলেন, ‘আরে, উনি কিন্তু আমার সঙ্গে কথা বলছে! মানে আমার কারণেই ও এখন একটু কথা বলছে (মিষ্টিভাবে), নয়তো এতক্ষণে কী হতো ভাবুন!’ করণের এই ‘সেলফ-রোস্ট’ শুনে খোদ জয়া বচ্চনও নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেননি।
করণের এই মন্তব্যের মূল সুর ছিল— জয়া বচ্চন যে আজ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন বা শান্ত আছেন, তার পুরো ক্রেডিট করণের। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, আমার জন্য আজ মানুষটা একটু কথা বলছেন’।

নেটপাড়ার প্রতিক্রিয়া:
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা মজায় মেতেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘একমাত্র করণ জোহরই পারেন জয়া ম্যামের মেজাজ সামলাতে।’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘করণ আর জয়াকে একসঙ্গে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-র পর আবার এভাবে দেখে ভালো লাগছে।’ কিন্তু করণ সিন থেকে আউট হতেই স্বমহিমায় জয়া। পাপারাৎজিরা তাঁর ছবি তুলতে গেলে ফের তেড়ে আসেন। সটান বলেন, ‘ইনয়াফ’ (Enough) (অনেক হয়েছে’।
মাস কয়েক আগেই বরখা দত্তের সঙ্গে আলোচনায় জয়া স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘আমি নিজে একটি মিডিয়ার পণ্য। কারা এই মানুষগুলো? তারা কি এ দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রশিক্ষিত? আপনি কি এদের মিডিয়া বলেন? আমি মিডিয়া থেকে এসেছি। আমার বাবা একজন সাংবাদিক ছিলেন। মিডিয়ার মানুষের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা ও শ্রদ্ধা রয়েছে’। এরপরে তিনি যা যোগ করেছিলেন সেই নিয়েই গণ্ডোগোল। জয়া বলেছিলেন,’কিন্তু যারা বাইরে টাইট-নোংরা প্যান্ট পরে হাতে মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তারা মনে করে যে তাদের মোবাইল থাকায় তারা আপনার ছবি তুলতে পারে এবং তারা যা চায় তা বলতে পারে। এবং তারা যে ধরণের মন্তব্য করে – এই লোকেরা কী ধরণের মানুষ? কোথা থেকে আসে এরা? এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী? এদের ব্যাকগ্রাউন্ড কী?’ সেই বিতর্কের রেশ থিতু হয়নি। জয়া বুঝিয়ে দিলেন জয়া বচ্চন আছেন জয়াতেই!