বাংলায় চোখ রাঙাচ্ছে নিপা ভাইরাস। এরমধ্যেই রাজ্যে প্রথম নিপা আক্রান্তের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বারাসতের হাসপাতালে গত দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন নিপা ভাইরাস আক্রান্ত মহিলা নার্স। বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর হাসপাতাল সূত্রে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে।
গত ৪ জানুয়ারি থেকে অসুস্থ ছিলেন ওই মহিলা নার্স। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই অবস্থার অবনতি হয়ে কোমায় চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে রেখেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। গত মাসের শেষেই শরীরের কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনের বাইরে আনা হয়েছিল। যদিও সেই সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, মহিলা নার্স এখনও সঙ্কটমুক্ত নন। বারাসতের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, মহিলা নার্সের ডায়রিয়া হয়েছিল, তিনি জ্বরেও ভুগছিলেন। সেই অবস্থাতেই প্রথমে কাটোয়া, তারপর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং শেষে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষায় জানা যায় তিনি নিপা আক্রান্ত।
১৪ জানুয়ারি থেকে বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নার্স। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি ছিলেন তিনি। তাঁর ফুসফুসে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়ে গিয়েছিল বলেই খবর। বলে রাখা ভালো, সেখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি। গত ৩৯ দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, নিপায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে নার্সের শরীরে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা সামলে উঠতে পারেননি, যার কারণেই এই মৃত্যু বলে অনুমান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, হসপিটাল অ্যাকোয়ার্ড নোসোকোমিয়াল ইনফেকশন হয় তাঁর। চোখ খোলার চেষ্টা, শরীর টানটান করে ফেলার পাশাপাশি হাত-পা নাড়া, কথা বলার চেষ্টাও করছিলেন। হঠাৎই এদিন অবস্থার অবনতি হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে ২০ নাগাদ বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই মহিলা নার্সের সঙ্গেই আরও একজন পুরুষ নার্স নিপা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তাঁকে কয়েকদিন আগেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিপা আতঙ্ক কয়েকগুণ বাড়ল সকলের মনে।

চলতি বছরের শুরুতেই নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বাংলায়। এই দুই নার্সের সংক্রমিত হওয়ার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। নিপা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই মহিলা নার্সের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি কোমায় চলে যান। যাঁরা এই দু’জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, এমন ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। যদিও তাঁদের কারও শরীরের ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। রাজ্যের বন বিভাগ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি মিলিয়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৯টি বাদুড় ধরা হয়েছিল। প্রতিটি বাদুড়ের শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব নিয়ে আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, সব বাদুড়ই নিপা ভাইরাসের জন্য নেগেটিভ। তবে একটিতে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট হয়, ওই বাদুড় অতীতে নিপার সংক্রমণ বহন করেছিল। অর্থাৎ, বর্তমানে কোনও বাদুড়ের শরীরে ভাইরাস নেই। তবে মহিলা নার্সের মৃত্যুর ঘটনায় নিপা ভাইরাস নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ল।