রানি বাদ পড়ুক ১ম হিন্দি ছবি থেকে! চেয়েছিলেন মা

Spread the love

বলিউডের অন্যতম চর্চিত নায়িকা রানি মুখোপাধ্যায়। ফিল্মি পরিবারের জন্ম তাঁর। হিন্দি ছবির ‘মুকুটহীন রানি’ কিন্তু কেরিয়ার শুরু করেছিলেন বাংলায়। বাবা রাম মুখোপাধ্যায় পরিচালিত বিয়ের ফুল ছবিতে ডেবিউ হয় রানির। সালটা ১৯৯৬। এই ছবিতে রানির নায়ক ছিলেন তাঁর মেসোমশাই প্রসেনজিৎ।

ছবির শ্যুটিং চলাকালীনই অবশ্য প্রসেনজিৎ-দেবশ্রীর সম্পর্কে তিক্ততা চলে এসেছিল। এরপর আলাদা হন দুজনে। রানির সঙ্গে অবশ্য প্রসেনজিতের সুসম্পর্ক আজও অটুট। রানির মা কৃষ্ণা রায় (মুখোপাধ্যায়) দেবশ্রীর মেজোদিদি। বাংলা ছবিতে হাতেখড়ির পর হিন্দিতে কেরিয়ার গড়ায় মন দেন রানি।

বলিউডে তাঁর প্রথম ছবি ছিল রাজা কি আয়েগি বারাত (১৯৯৭)। এই ছবির স্ক্রিন টেস্ট দেখার পরে রানির মা ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রানি জানিয়েছেন, কৃষ্ণা ছবির প্রযোজক সেলিম আখতারকে সরাসরি মেয়েকে এই ছবি থেকে বাদ দিতে বলেন, কারণ এতে নাকি গোটা ছবি নষ্ট হয়ে যাবে এবং লোকসানের মধ্যে পড়বেন প্রযোজক।

রানি মুখোপাধ্যায়ের মা কেন তাঁকে সেই ছবি থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন? রানি বলেন যে তার মা প্রাথমিকভাবে অভিনয়কে পেশা গ্রহণ করার বিষয়ে খোলামেলা ছিলেন। ‘সুতরাং আমার মায়ের জন্য, এটি এমন ছিল যে তুমি এটা করে দেখো, সবকিছু কোনদিনে যায়, এইরকম গোছের। যদিও আমার প্রথম স্ক্রিন টেস্টের পরে, মা আমাকে এতটাই খারাপ অভিনেত্রী মনে করেছিল যে তিনি প্রযোজককে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় আপনি আমার মেয়েকে নিয়ে আপনার ছবিটি নষ্ট করবেন। আপনি ক্ষতির মধ্য দিয়ে যাবেন। আপনি ওকে (ছবিতে) না নিলেই ভালো হবে। কারণ প্রযোজক সেলিম আঙ্কেল (রাজা কি আয়েগি বারাত প্রযোজক)। আমাকে চুক্তিবদ্ধ করতে খুব আগ্রহী ছিলেন। তবে আমার মা বুঝতে পেরেছিলেন যে আমি ভাল কাজ করছি না। তাই তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি না যে আপনার তাকে নেওয়া উচিত’।

রানির বাবা তাঁকে লঞ্চ করলেও পরিচালক রাম মুকোপাধ্যায়ও চাননি মেয়ে ফিল্ম জগতে আসুক। রানি বলেন, ‘বাবাও আগ্রহী ছিলেন না, কারণ সেই সময় চলচ্চিত্র পরিবারের মেয়েদের পক্ষে অভিনয় করা খুব স্বাভাবিক ছিল না। পুরুষরাই এই পেশাটি অনুসরণ করত, আজকের মতো নয়, যখন সমস্ত স্টারকিডই বাবা-মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে এত অনুপ্রাণিত হয়। সে সময় ব্যাপারটা একটু অন্যরকম ছিল। আমি মনে করি না যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, সাধারণভাবে, তখন কেরিয়ার হিসাবে অনুসরণ করার জন্য খুব সম্ভাব্য বিকল্প বলে মনে হয়েছিল। এমনকি যখন আমি বড় হচ্ছিলাম, আমি মনে করি না যে স্কুলে বলা খুব গর্বিত হওয়ার মতো কিছু ছিল যে আমি একটি চলচ্চিত্র পরিবার থেকে এসেছি’।

বি-টাউনে রানির ডেবিউ ছবি অশোক গায়কোয়াড় পরিচালিত ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’। এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন মনীশ বেহেল, শাদাব খান এবং গুলশান গ্রোভার। বড়লোক বাবার বিগড়ে যাওয়া ছেলে রাজের হাতে ধর্ষণের শিকার হয় মালা। ধর্ষকের গলাতে মালা দেয় সে, কিন্তু তাঁকে উচিত শিক্ষা দিতে ছাড়েনি। যদিও একটা সময় রাজ ও মালা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলে, সেই নিয়েই রাজা কি আয়েগি বারাতের গল্প।

মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে ছবিতে অভিনয়ের জন্য রানি সম্প্রতি সেরা অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, এটাই তাঁর কেরিয়ারের প্রথম ন্যাশন্যাল অ্যাওয়ার্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *