রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’ মানেই একরাশ আবেগ। সেই ধারাবাহিকে মা সুনয়নার চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী ঊর্মিলা ভাট। কেবল ছোট পর্দা নয়, অমিতাভ বচ্চনের ‘ত্রিশূল’ থেকে শুরু করে ‘অঙ্গুর’, ‘মণিকরণ’— বলিউডের অসংখ্য ছবিতে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তিনি ছিলেন অপরিহার্য। কিন্তু পর্দার এই জনপ্রিয় মায়ের জীবনের যবনিকা পতন ঘটেছিল এক রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।
সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল?
১৯৯৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় নিজের বাড়িতে একা ছিলেন ঊর্মিলা। তাঁর স্বামী মার্কণ্ড ভাট সেই সময় বরোদায় ছিলেন। জানা যায়:
লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা: বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে যে, লুটপাটের উদ্দেশ্যেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল।
গলা কেটে হত্যা: অপরাধীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঊর্মিলা ভাটের গলা কেটে দেয়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে ঘর লুটপাট করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।দীর্ঘক্ষণ ফোন না পেয়ে পাশের বাড়ির লোক এবং আত্মীয়রা যখন বাড়িতে ঢোকেন, তখন মেঝের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ঊর্মিলার নিথর দেহ।
তদন্ত ও রহস্য:
ঊর্মিলা ভাটের এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যু সেই সময় পুরো বলিউড এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়াশা বজায় ছিল। জনশ্রুতি রয়েছে যে, বাড়ির কোনো পরিচিত বা বিশ্বস্ত লোকই এই জঘন্য অপরাধের পেছনে ছিল। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, কিছু গুন্ডা চুরির উদ্দেশ্যে ঊর্মিলা ভাটকে হত্যা করেছিল। তবে আজ পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। উর্মিলা ভাটকে কে এবং কেন খুন করা হয়েছে তা কেউ জানে না। ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঊর্মিলা। তার শেষ চলচ্চিত্র সিনার গড যা ১৯৯৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিতে তিনি ধর্মেন্দ্রর মা হয়েছিলেন।

স্মৃতির পাতায় ঊর্মিলা:
পর্দার সেই স্নিগ্ধ হাসি আর শক্তিশালী অভিনয় আজও দর্শকদের মনে উজ্জ্বল। কিন্তু সীতার মায়ের এমন করুণ পরিণতি আজও যখন আলোচনায় আসে, তখন ভক্তদের চোখে জল আসে। এক প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীর এমন অকাল এবং ভয়ংকর বিদায় ভারতীয় বিনোদন জগতের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।