রাহুলের ভাষণ থামানোর অভিযোগ! কাগজ ছোড়ায় সাসপেন্ড ৮ MP

Spread the love

মঙ্গলবারও ২০২০ সালে লাদাখে চিনা আগ্রাসন ইস্যুতে ফের উত্তাল হল সংসদ। লোকসভার স্পিকার ও বিজেপি সাংসদদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভাষণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংসদের ভিতরে প্রতিবাদে সরব হন কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদরা। এরপরেই অভব্য আচরণ এবং স্পিকার ওম বিড়লার দিকে কাগজ ছোড়ার অভিযোগে সাসপেন্ড হতে হল ৮ জন বিরোধী সাংসদকে।

চলতি বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেও রাহুল গান্ধী লাদাখ প্রসঙ্গ তোলেন লোকসভায়। সোমবারের মতো এদিনও বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, ২০২০ সালে গালওয়ান কাণ্ডের আগে থেকেই লাগাতার চিনের কাছে জমি হারাচ্ছে ভারত। অথচ সরকার নীরব। স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে তিনি ফের প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত জীবনী গ্রন্থ থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন।এরপরেই হট্টগোল শুরু করেন বিজেপি সাংসদরা। বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন, বিজেপি এবং লোকসভার স্পিকার মাঝপথেই রাহুলের ভাষণ থামিয়ে দিয়েছেন। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদরা। এরপরই সাংসদ হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম টাগোর, গুরজিত সিং অউজলা, কিরণ কুমার রেড্ডি, প্রশান্ত পোডোলে, ডিন কুরিয়াকোস এবং এস ভেঙ্কট রমনকে সাসপেন্ড করা হয়। বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্পিকারকে লক্ষ্য করে তাঁরা কাগজ ছুঁড়েছিলেন।

সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই প্রস্তাব আনেন। সাসপেনশনের পর দিনভর লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। বুধবার সকাল ১১টায় ফের অধিবেশন বসার কথা। বিজেপির দাবি, বিরোধীদের লাগাতার বাধার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দলীয় সূত্র জানায়, স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হবে এবং কঠোর শাস্তির দাবিও জানানো হবে।

বহিষ্কৃত কংগ্রেস সাংসদ অমরিন্দর রাজা ওয়ারিং বলেন, ‘রাহুল গান্ধীকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষণের সময়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি নথিটি যাচাই করেই সংসদে জমা দিয়েছিলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। এটা অপরাধ?’ অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর ‘গণতন্ত্র ও সংসদকে অপমান করার’ জন্য রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর একটাই উদ্দেশ্য ছিল… ভারতীয় সৈন্যদের অপমান করা। কংগ্রেসের কাছে এখন এটাই একমাত্র এজেন্ডা বাকি আছে। (রবিবার) একটি চমৎকার বাজেট পেশ করার পর বিরোধীদের আর বলার মতো কিছু ছিল না। আর তাই, কাগজের টুকরো ছিঁড়ে স্পিকারের দিকে ছুঁড়ে মারা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? একজন ব্যক্তি যিনি জানেন না যে কথা বলার জন্য স্পিকার বা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়… দেখুন কী ঔদ্ধত্য। এটা একটি দল এবং একটি পরিবারের ঔদ্ধত্য। এটা ক্ষমতার দম্ভ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *