সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে প্রত্যেক কলাকুশলী নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন কিন্তু যে মানুষটিকে ছাড়া এই সিনেমাটি সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ তিনি হলেন দিব্যজ্যোতি দত্ত। শ্রী চৈতন্যদেবের চরিত্রে দিব্যজ্যোতিকে দেখে মুগ্ধ দর্শকরা। মুগ্ধ সহকর্মী থেকে পরিচালক সকলেই।
দিব্যজ্যোতির অভিনয়ে মুগ্ধ একসময়ের শ্রী চৈতন্যদেব যীশু সেনগুপ্তও। দিব্যজ্যোতির চোখের জন্যই যে তাকে শ্রীচৈতন্যদেবের জন্য বেছে নিয়েছিলেন সৃজিত, সেকথাও পরিচালক জানিয়েছিলেন।
শ্রী চৈতন্যদেবের ভূমিকায় দিব্যজ্যোতিকে বেছে নেওয়ার পর সবথেকে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল অভিনেতার অতিরিক্ত ওজন। কিন্তু পরিচালকের তরফ থেকে ছুঁড়ে দেওয়া সেই চ্যালেঞ্জ সাদরে গ্রহণ করেছিলেন অভিনেতা। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ২৭ কেজি ওজন কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
গোটা শুটিং চলাকালীন তিনি যে শুধুমাত্র তরমুজ খেয়ে থাকতেন সে কথা নিজেই বলেছিলেন অভিনেতা। শুধু শরীরের দিক থেকে নয়, মনের দিক থেকেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন চৈতন্যদেব। শুধু শুটিং চলাকালীন নয়, তার আগে এবং পরে গোটা সময়টাই তিনি শ্রীচৈতন্যদেবের ঘোরেই থাকতেন।তবে এতদিন তো শুধুমাত্র দিব্যজ্যোতি এবং পরিচালক এই অতিরিক্ত ওজন কমানোর কথা বলেছেন তবে এবার দিব্যজ্যোতি পোস্ট করলেন দুটি ছবি যা প্রমাণ করে কতটা কঠোর পরিশ্রম করলে তবেই নিজের মধ্যে এতটা পরিবর্তন আনা যায়।
দিব্যজ্যোতি যে ছবি দুটি পোস্ট করেছেন তার প্রথমটিতে দেখা যাচ্ছে, পেশী বহুল চেহারা সম্পন্ন দিব্যজ্যোতি যাকে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে দেখেই মানুষ অভ্যস্ত। কিন্তু দ্বিতীয় ছবিটি দেখলে আপনি চমকে যেতে বাধ্য কারণ দ্বিতীয় ছবিতে একজন শীর্ণ, হাড়সর্বস্ব শরীর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও কিন্তু দিব্যজ্যোতির।

অভিনেতা লেখেন, ‘একদিন আয়নার সামনে আমি ছিলাম শুধু শরীর আজ আয়নার ভেতরে খুজি শ্রীচৈতন্য। ২৭ কেজি ওজন শুধু নয়, আমি ঝরিয়েছি ২৭ স্তর আমি-কে। জিমের লোহার ঘামে গড়া শরীরে, আর হৃদয়ের ভিতরে জন্ম নেওয়ার শ্রীচৈতন্যদেবের বৈরাগ্য। এই দুইয়ের মাঝেই আমার এই রূপান্তর।’