সোমবার সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রামায়ণের শ্লোক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বন্দে মাতরম রচনা করেছিলেন। ভাষণের মাঝখানে বাধা দিলে তিনি খুব রেগে যান। রাজনাথ সিং বলেন, ‘সত্যি কথা হল, ভারতীয় মুসলিমরা বঙ্কিমচন্দ্রের অনুভূতিকে সম্মান করেননি।’ ততক্ষণে সংসদের কয়েকজন সাংসদ হট্টগোল শুরু করেন। এই কথা শুনে রাজনাথ সিং রেগে গিয়ে উচ্চস্বরে বললেন, ‘কে বসবে? কে বসবে? আমরা কী নিয়ে কথা বলব? মাননীয় স্পিকার, ওদের থামান। সংসদে তিনি যাই বলুন না কেন, তিনি সত্য থেকে একটু দূরে কথা বলতে পারেন। এটি নিয়ে আপনার হইচই করা উচিত নয়। আপনি পরে দাঁড়িয়ে এটি প্রতিহত করতে পারেন। এটা সাংসদের মর্যাদা এবং আমি সর্বদাই এর যত্ন নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা হল, ভারতীয় মুসলিমরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুভূতি কংগ্রেস বা মুসলিম লিগের নেতাদের চেয়ে অনেক ভালো বোঝেন। রাজনাথ জোর দিয়ে বলেছিলেন যে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দে মাতরম কোনও রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক ধারণা নয়, এটি দেশপ্রেমের আহ্বান। পরে এটি মৌলবাদী এবং তোষণের রাজনীতি দ্বারা বিবর্ণ হয়েছিল।প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘বন্দে মাতরম কেবল বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি উত্তর থেকে দক্ষিণে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল। পঞ্জাব, তামিলনাড়ু এবং বম্বে প্রেসিডেন্সির মানুষও বন্দে মাতরম স্লোগান দিতে শুরু করেন। এটি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বাইরেও বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য বন্দে মাতরম একটি মন্ত্র হয়ে ওঠে। লন্ডন, প্যারিস, জেনেভা, কানাডা যেখানেই ভারতীয়রা ছিলেন, সেখানেই বন্দে মাতরম স্লোগান দিতে থাকেন। সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বন্দে মাতরম ভারতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। বন্দেমাতরম আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপরিসীম শক্তি জুগিয়েছিলেন, যাঁরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।

আর রাজনাথের আগে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন যে বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করেছিলেন মহম্মদ আলি জিন্না। আর সেটা মেনে নিয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু। আর তা নিয়ে পালটা প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানান কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ।