ভারতের জনগণের টাকায় ‘বাবরি মসজিদ’ বানাতে চেয়েছিলেন দেশের প্রথম জওহরলাল নেহরু। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর দাবি, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল নেহরুর বাবরি পরিকল্পনা প্রতিহত করেছিলেন এবং নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি অর্থ মসজিদ নির্মাণে ব্যবহার হবে না।
গুজরাটের ভদোদরার কাছে সাধলি গ্রামে সর্দার প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ঐক্য যাত্রা’য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং প্যাটেলকে প্রকৃত উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি কখনও তোষণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। রাজনাথ সিং আরও দাবি করেন, নেহরু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্যাটেলের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য সংগ্রহ করা অর্থ কূপ ও রাস্তা নির্মাণে ব্যয় করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু অযোধ্যায় সরকারি অর্থে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। যদি কেউ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে থাকেন, তিনি ছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, এক গুজরাটি মায়ের সন্তান। তিনি সরকারি টাকায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ হতে দেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নেহরু যখন গুজরাটের সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন প্যাটেল স্পষ্ট করে দেন যে এখানে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ, মন্দির সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ৩০ লক্ষ টাকা সাধারণ মানুষ দান করেছিল।
সিনিয়র বিজেপি নেতা বলেন, ‘একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল এবং সোমনাথ মন্দিরের কাজে সরকারের এক পয়সাও খরচ হয়নি। একই ভাবে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণেও সরকার এক টাকাও দেয়নি। পুরো অর্থ এসেছে দেশের মানুষের কাছ থেকে। এটাকেই প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা বলা হয়।’ রাজনাথ সিং দাবি করেন, সর্দার প্যাটেল চাইলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন, কিন্তু জীবনে কোনও পদ নিয়ে তিনি দাবি করেননি। নেহরুর সঙ্গে মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কাজ করেছেন। কারণ, তিনি মহাত্মা গান্ধীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস সভাপতির পদে নেহরু নির্বাচিত হন শুধু এই কারণে যে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে প্যাটেল নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কথায়, ‘১৯৪৬ সালে কংগ্রেস সভাপতির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কংগ্রেস কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বল্লভভাই প্যাটেলের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু গান্ধীজি যখন প্যাটেলকে নেহরুকে সভাপতি হতে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং নিজের নাম প্রত্যাহার করতে বলেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নেন।’ কারো নাম উল্লেখ না করেই রাজনাথ সিং বলেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি প্যাটেলের উত্তরাধিকার মুছে ফেলতে চাইছিল। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের পাতায় প্যাটেলকে তাঁর যথাযথ জায়গায় ফিরিয়ে আনতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’

তিনি দাবি করেন, ‘কিছু লোক’ প্যাটেলের উত্তরাধিকার আড়াল করতে চেয়েছিল, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত তারা সফল হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘প্যাটেলের মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষ তাঁর স্মৃতিসৌধ গড়ার জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু এই খবর নেহরুজির কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন, সর্দার প্যাটেল কৃষকদের নেতা ছিলেন, তাই এই অর্থ দিয়ে গ্রামের কূপ ও রাস্তা নির্মাণ করা উচিত। কী অদ্ভুত কথা! কূপ আর রাস্তা তৈরি তো সরকারের কাজ। স্মৃতিসৌধের অর্থ সেখানে খরচ করতে বলাটা হাস্যকর।’ রাজনাথ সিং দাবি করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সে সময়কার সরকার যেকোনো মূল্যে প্যাটেলের ঐতিহ্য আড়াল করতে চেয়েছিল। সিং আরও বলেন, ‘নেহরুজি নিজের জন্য ভারতরত্ন নিয়েছেন, কিন্তু তখন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে কেন সেই সম্মান দেওয়া হয়নি? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ গড়ে প্যাটেলকে যথাযথ সম্মান দিয়েছেন।’ রাজনাথ সিং বলেন, প্যাটেলকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য বয়স বেশি ছিল, এ ধরনের যুক্তি সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর ভাষায় ,‘মোরারজি দেশাই ৮০ বছরের বেশি বয়সে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তাহলে ৮০-এর নিচে থাকা সর্দার প্যাটেল কেন পারবেন না?’ কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সে সময়ে প্যাটেলের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্ব পেলে আজ এত দীর্ঘ সময় কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে ভারতকে লড়াই করতে হতো না। তিনি বলেন, প্যাটেল সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাস করতেন। রাজনাথ সিং বলেন, ‘তবে সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিধা করতেন না। হায়দরাবাদের সংযুক্তির সময় তিনি যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা না হলে হয়তো হায়দরাবাদ আজ ভারতের অংশ হতো না।’