রাজ্যে বাম আমলের শিক্ষানীতি নিয়ে ফের একবার পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে দিলেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে সিপিএম জমানায় প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরেজি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া সমালোচনা করতে শোনা গিয়েছে। রাজের দাবি, সেই সময়ের ওই সিদ্ধান্তের কারণেই পশ্চিমবঙ্গের এক বিশাল অংশের ছাত্রছাত্রী সর্বভারতীয় স্তরে পিছিয়ে পড়েছিল। সেই তালিকায় তিনি নিজেও রয়েছেন। বিধায়কের এই মন্তব্য ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
কী বলেছেন রাজ?
রাজ চক্রবর্তী শান্ত মেজাজেই বিঁধেছেন বাম শিবিরকে। তাঁর ছেলে ইংরাজি মিডিয়াম স্কুলে পড়ে। ইউভান এই বয়স থেকেই গড়গড় করে ইংরাজি বলে। রাজের কথায়, বলেন, ‘সিপিএমের সময় ইংরেজি তুলে নেওয়া হয়েছিল। যখন দেওয়া হল ইংলিশে তখন হাবুডুবু খাচ্ছি। ইংলিশের ভয়েই একটা সময় পড়াশোনা থেকে দূরে থেকেছি’। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার ভয়ে নতুন করে ইংরাজি চর্চা শুরু করেন রাজ। তখন নতুন উপলব্ধি হয় তাঁর। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছিল কেন শুরু থেকে শিখলাম না? কেন শুরু থেকে আমাকে সুযোগ দেওয়া হল না। তাহলে কমিউনিকেট করা আরও সহজ হত। বাংলা তো জানবে (সন্তানরা) কিন্তু ইংরাজিটাও জানতে হবে।’
রাজের মতে, সুপরিকল্পিতভাবে একটি প্রজন্মকে ইংরেজি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল, যার মাশুল আজও দিতে হচ্ছে রাজ্যের অনেককে। নিজের ছেলে ইউভানের উদাহরণ টেনে বলেন, এই বয়স থেকেই তিনটে ভাষা জানে ইউভান। ইংরাজি, বাংলার পাশাপাশি হিন্দিতেও কথা বলে ইউভান।
সিপিএম জমানার ‘ইংরেজি লোপ’ নীতি তৃণমূলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হাতিয়ার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের প্রথম সারির নেতারা বারবার এই ইস্যুতে বামেদের বিঁধেছেন। রাজ চক্রবর্তীর এই মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিল।

পাল্টা দিচ্ছে বামেরা:
তৃণমূল বিধায়ক নিজের দলের ব্যর্থতা ঢাকতেই পুরনো কাসুন্দি ঘাটছেন বলে অভিযোগ বাম সমর্থকদের।
চর্চায় পরিচালক-বিধায়ক:
পরিচালক হিসেবে রাজ চক্রবর্তী বরাবরই জনপ্রিয়, তবে রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর এই ‘ডিবেট’ বা বিতর্কিত মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজের এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের এক পক্ষ রাজের সুরে সুর মিলিয়ে বামেদের দুষছেন, অন্য পক্ষ আবার প্রশ্ন তুলছেন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার হাল নিয়ে।
সব মিলিয়ে, সাতের ও আটের দশকের সেই শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ চক্রবর্তীর এই মন্তব্য় যে ভোটের বাজারে বা রাজনৈতিক উত্তাপে ঘি ঢালল, তা বলাই বাহুল্য।