সিভিক ভলান্টিয়াররা কেন ‘আর্মির’ পোশাক পরবে?

Spread the love

বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এই আবহে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এল। সিভিক ভলান্টিয়ারদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিয়ে ডিউটি করানো হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ব্লকের কাশেমনগর গ্রামে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে ফেরার পথেই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। আর তাঁর এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় মঙ্গলকোটের কাশেমনগরে ছিল বিজেপির ‘পরিবর্তন সভা।’ সেই সভা শেষ করেই ফিরছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ফেরার পথে সরুলিয়া এলাকার একটি হিমঘরের সামনে আলু বোঝাই ট্রাক্টরের ভিড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সাংসদ ও অন্যান্য বিজেপি নেতাকর্মীদের গাড়ি সেই যানজটে আটকে পড়ে। যদিও ততক্ষণে যানজট নিয়ন্ত্রণে নেমে পড়েন বেশ কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়র। সেই সময়ই কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়রদের পোশাক দেখে ক্ষোভ উগরে দেন সাংসদ। অভিযোগ, তাঁদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর মতো পোশাক পরানো হয়েছে, যা একেবারেই অনুচিত। যদিও সিভিক ভলান্টিয়রদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি। যদিও তারপরেও সৌমিত্র বলেন, সিভিকরা দেখছি আর্মির ড্রেস পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা একটু চিন্তার বিষয়। কিন্তু ছেলেরা ভাল কাজ করছে। তারপরেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক কেন পরবে? এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্বভাবতই বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। সৌমিত্র খাঁ-কে পাল্টা কটাক্ষ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম সাংসদকে বিঁধে বলেন, ‘ওনার মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে, তাই এমন উল্টোপাল্টা কথা বলছেন। সিভিক ভলান্টিয়াররা তাঁদের নির্দিষ্ট পোশাকই পরেন। তাঁরা কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরবেন? রাজনৈতিক চাপে পড়েই উনি এসব ভুল বকছেন। আসলে দল বড় দায়িত্ব দিয়েছে তো। চাপে পড়ে এসব বকছেন।’ যদিও বিজেপির অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে দল। বিজেপি নেতাদের মতে, নির্বাচন চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের ইউনিফর্মের সঙ্গে মিল থাকা পোশাক ব্যবহার হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *