সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন! উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা নিয়ে বড় অভিযোগ

Spread the love

গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ সেমিস্টার। চলতি বছর থেকে শুরু হয়েছে এই সেমিস্টার ভিত্তিক পরীক্ষা। এতদিন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা চললেও উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষায় তিনটি প্রশ্ন সিলেবাস বহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ফলে চিন্তায় পড়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আর এই ঘটনায় সরব হয়েছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।

প্রশ্নপত্রে বিভ্রাট

জানা গিয়েছে, অঙ্ক পরীক্ষায় বেশ কিছু প্রশ্ন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সমস্যা হয়েছে। সে জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল। শিক্ষকদের অভিযোগ, অবকল সমীকরণে (ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন) যে প্রশ্নটি রয়েছে তা সিলেবাস বহির্ভূত। এমনকী বাজার চলতি যে বইগুলি রয়েছে, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রশ্নগুলি পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত নয়। এই প্রশ্নটি ৫ (এ) নম্বরে রয়েছে। এই প্রশ্নের পূর্ণমান ২। এছাড়া, ১১ (বি) এবং (সি)-এর প্রশ্ন পাঠ্যক্রম বহির্ভূত হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। এই দু’টি প্রশ্নের পূর্ণমান ৪ করে। অর্থাৎ, মোট ১০ নম্বরের প্রশ্ন পাঠ্যক্রম বহির্ভূত বলে দাবি। শুধু তাই নয়, অঙ্ক পরীক্ষা ঘিরে অভিযোগ রয়েছে আরও। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, এমন বেশ কিছু প্রশ্ন এসেছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সংসদ নির্দিষ্ট উত্তরপত্রে সমাধান করা পরীক্ষার্থাদের পক্ষে অসুবিধাজনক।

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ কী বলছে?

অন্যদিকে, শিক্ষকদের অভিযোগ সামনে আসতেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা করা হবে। যদিও তিনটি প্রশ্ন ভুল থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। জানিয়েছেন, ‘দু’টি প্রশ্ন পাঠ্যক্রম বহির্ভূত বলে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। ছাত্রস্বার্থে যা যা করণীয়, সংসদ তাই করবে।’

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্কের প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ আসছে। এমনিতেই এবারে পড়াশোনার এবং ক্লাসের সময় খুব কম পেয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। তার উপর অভিযোগ, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত প্রশ্ন করা হয়েছে। এমনকী বেশ কিছু প্রশ্নের সমাধান করতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। এই অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা দুরূহ ব্যাপার। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি ছাত্র-ছাত্রীদের যথাযথ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়।’ কিঙ্কর অধিকারীর আরও অভিযোগ, ‘আমরা প্রথম থেকেই এই সেমিস্টার প্রথার প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছি। অল্প সময়ের মধ্যে কোনভাবেই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এই পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত এবং বাস্তবসম্মত নয়। কোনভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে পাঠ্যক্রম শেষ করা সম্ভব নয়। এতে ভিত্তি দুর্বল হয়। সেমিস্টার প্রথা প্রত্যাহার করা হোক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *