সুপ্রিম নির্দেশে চাকরি বহাল থাকল ক্যানসার আক্রান্ত সোমার

Spread the love

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের মামলায় হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। পুরো প্যানেল বাতিল করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। ফলে এই প্রক্রিয়ার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। একইসঙ্গে বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছে শীর্ষ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা সম্ভব নয়। ফলে চাকরি হারালেন যোগ্য-অযোগ্য সমস্ত প্রার্থীরাই। তবে শুধু একজনই ওই বাতিলের তালিকায় নেই। তিনি হলেন, ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাস। তাঁর চাকরি বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি পেয়েছিলেন সোমা দাস। তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখে এই চাকরির বিষয়টি বিবেচনা করেন তিনি।পরে হাইকোর্টের নির্দেশে এই সোমা দাস ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল বীরভূমের মধুরা হাইস্কুলে যোগ দেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় সোমার মেধাতালিকায় নাম ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে তিনি মামলা করেন হাইকোর্টে। তারইমধ্যে ২০১৯ সালে ক্যানসার ধরা পড়েছিল সোমার। মানবিক দিক বিবেচনা করে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল।

এদিকে, নিয়োগ মামলায় বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ গতবছর ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করলেও সোমার চাকরি বহাল রেখেছিল। সেই রায় বহাল থাকল শীর্ষ আদালতেও, অর্থাৎ সোমা রায় শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে পারবেন।

এদিন সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া তিন মাসের মধ্যে শুরু করতে হবে। যারা দুর্নীতিগ্রস্তের তালিকায় আছেন তাঁরা সেই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়াও, দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বেতন বাবদ পাওয়া পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে। যারা দুর্নীতিগ্রস্তের তালিকায় নেই তাঁরা নতুন প্রক্রিয়ায় বসার জন্য বয়সের ছাড়ের সুবিধা পাবেন। দুর্নীতিগ্রস্তের তালিকায় নেই এমন প্রার্থীদের বেতনও ফেরাতে হবে না। এছাড়াও

অন্য চাকরি থেকে যারা এই চাকরিতে এসেছিলেন তাঁরা তাঁদের পুরনো চাকরিতে ফেরত যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে শূন্যপদ তৈরি করতে হবে রাজ্যকে। এদিকে, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত হবে কিনা তা নিয়ে ৪ এপ্রিল আবার শুনানি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *