হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ’য়ে শ’য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছে। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। যদিও রিপোর্টে এবার দাবি করা হল, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে সরিয়ে আনার বিকল্প বিবেচনা করছে মোদী সরকার।
ডিরেক্টোরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ক্রু) পিসি মীনা বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন জলসীমার আশেপাশে ৩৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। তাদের নিরাপদে এই অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী নয়, ওমান উপসাগর, পারস্য উপসাগর এবং তৎসংলগ্ন সমুদ্র অঞ্চলে বাধ্যতামূলক ভাবে সুরক্ষা প্রোটোকল মনে চলতে বলা হয়েছে ভারতীয় জাহাজগুলিকে। এদিকে হরমুজ প্রণলীতে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলিকে সেখান থেকে বের করে আনতে এসকর্ট করার কথা ভাবনাচিন্তা করছে ভারত।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী রুদ্ধ করে দেওয়া সহজ।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। এই আবহে হরমুজ নিয়ে চিন্তিত দিল্লি। তবে সেখান থেকে ভারতীয় জাহাজগুলিকে বের করতে নিজেরাই পথ খুঁজে বের করতে চাইছে মোদী সরকার।