ভারতীয় নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০ আর ‘সিহক’ হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৭,৯৯৫ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমএইচ-৬০ আর হেলিকপ্টার পাঁচ বছরের জন্য ‘কবচ’ পাবে এই চুক্তিটি পাঁচ বছরের ফলো-অন সহায়তা এবং ফলো-অন সরবরাহ সহায়তার আওতায় করা হয়েছে। যে হেলিকপ্টার তৈরি করে মার্কিন লকহেড মার্টিন কর্পোরেশন। যে কোনও আবহাওয়ার মধ্যেই মিশন চালাতে সক্ষম সেই হেলিকপ্টার। নৌসেনার ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারের ভ্যারিয়েন্ট এমএইচ ৬০আর সিহক হেলিকপ্টার।
১৫,১৫৭ কোটি টাকার মূল চুক্তির অধীনে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে কয়েক মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে, কারণ ভারতে রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধাগুলি উন্নত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারতের সামুদ্রিক শক্তিকে শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএইচ-৬০আর সিহক বিশ্বের অন্যতম অ্যান্টি-সাবমেরিন, অ্যান্টি-সারফেরস ওয়ারফের হেলিকপ্টার। সেটি জলের তলায় ঘাপটি মেরে থাকা সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করে দিতে পারে। এএন/একিউএস-২২ এএলএফএস ডিপিং সোনার, মাল্টি-মোড রেডারের মতো অত্যাধুনিক সেনসর এবং এমকে-৫৪ টর্পেডোর মতো শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকায় জলের মধ্যে অনায়াসে সাবমেরিনকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করে দিতে পারে। যা এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে সাবমেরিনের গতিবিধি বেড়েছে।
তাছাড়াও জলের উপরেও একেবারে নিখুঁতভাবে টার্গেট গুঁড়িয়ে দিতে পারে এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার। সেই হেলিকপ্টারে এজিএম-১১৪ হেলফায়ার মিসাইল, লাইটওয়েট টর্পেডো, মেশিন গান আছে। অত্যন্ত দ্রুত শত্রুপক্ষের জাহাজ চিহ্নিত করতে পারে। আক্রমণ চালাতে পারে। ফলে সমুদ্র তথা উপূকলবর্তী এলাকায় ভারতের শক্তি আরও বাড়বে।

প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এমন এক সময় করা হয়েছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা’ (রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত থাকার কারণে) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এটিকে ‘অনুপযুক্ত’ হিসাবে বর্ণনা করেছে ।তবে সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি খুব ঘনিষ্ঠ। রাশিয়ার তেল বন্ধ হলে শুল্ক কমবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে একটি বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারতের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক। এতে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি আমদানি বাড়াবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কৃষিপণ্যের (ভুট্টা, সয়াবিন) ওপর ছাড় দেবে। শুল্ক সম্ভাব্যভাবে ১৫-২০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।