ভেনেজুয়েলার পর এবার কিউবার ওপর আরও চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিকে ‘মানবিক সংকট এড়াতে’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে আসার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে ক্যারিবীয় দেশটি।১৯৬০-এর দশক থেকে চলা কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্প্রতি এক নির্বাহী আদেশে কিউবার কাছে তেল বিক্রি করে এমন যেকোনো দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। এ ঘোষণার পর কিউবার জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এতদিন কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ভেনেজুয়েলা নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা করলেও, মাদুরোকে গ্রেফতার ও ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
কিউবার সংকটময় পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে আরো চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, কিউবার হাতে এখন আর অর্থ নেই, নেই পর্যাপ্ত তেলও। ভেনেজুয়েলার অর্থ ও জ্বালানির ওপর নির্ভর করেই দেশটি টিকে ছিল বলেও দাবি তার। এ অবস্থায় কিউবাকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি সমঝোতায় এলেই কিউবা আবার ‘মুক্তি’ পাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,
আমরা কিউবার সঙ্গে কথা বলা শুরু করছি। তাদের মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন এবং আমরা কিউবার সঙ্গে সেই আলোচনাও করছি। আমার মনে হয় না আমাদের দেশে বসবাসকারী অনেক লোকের সঙ্গে কিউবা খুব খারাপ আচরণ করেছে। তারা সবাই আমাকে ভোট দিয়েছে এবং আমরা চাই তাদের সাথে ভালো আচরণ করা হোক। আমরা চাই তারা যেন তাদের দেশে ফিরে যেতে পারেন।
ট্রাম্পের চাপকে ‘অসাধারণ হুমকি’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কিউবা সরকার। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কিউবাবিরোধী ডানপন্থি গোষ্ঠী এই চাপের পেছনে কাজ করছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী কিউবার হাতে মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের তেলের মজুত রয়েছে। ফলে দ্রুত সমাধান না এলে দেশটি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে, মেক্সিকো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবায় তেল সরবরাহ বাড়ালেও মার্কিন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। তার আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ও মৌলিক সেবায় বড় ধরনের মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
কিউবার মানবিক পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা কিউবাকে অর্থনৈতিকভাবে গলা টিপে ধরার অভিযোগ তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন জাখারোভা।