ভোটের আগে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। সাত এইআরও-র পর এবার তিন জন মাইক্রো অবজার্ভারকে বরখাস্ত করল কমিশন। প্রভাবিত হয়ে ভোটার তালিকায় অসাধু হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার। নিজেদের দায়িত্ব অন্যের হাতে দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এক্স হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়, কমিশনের নিযুক্ত জেলা পর্যায়ের রিপোর্ট অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশে জানানো হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের নিজ নিজ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব অন্য কারুর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় না। জানা গিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিযুক্ত বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, ইউকো ব্যাঙ্কের সিনিয়র ম্যানেজার এবং ইন্সপেক্টর অফ সেন্ট্রাল ট্যাক্স সিজিএসটি অ্যান্ড সিএক্সকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আর সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত জানাতে হবে কমিশনকে।
এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন মাইক্রো অবজার্ভারদের একাংশের কাজ নিয়ে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে আগেই মাইক্রো অবজার্ভারদের সতর্ক করে কমিশন। স্পষ্ট বলা হয়, দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এমনকী কাজের কোথাও অবহেলা প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও কার্যত হুঁশিয়ারি দেয় কমিশন। এবার সরাসরি সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত। যদিও শুরু থেকেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের কোনও আইন নেই নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু নিয়ম বহির্ভূতভাবে তা নিয়োগ করা হয়েছে। তাই মাইক্রো অবজার্ভারদের কথা শোনার প্রয়োজন নেই। বলে রাখা ভালো, এর আগে সাত এইআরও-কে সাসপেন্ড করে কমিশন। এই সাসপেনশন ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। এভাবে কী রাজ্য সরকারের কোনও কর্মীকে সরাসরি কমিশন শাস্তি দিতে পারে? মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মর্মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘যাঁদের ডিমোশন করবে, তাঁদের আমরা প্রোমোশন দেব।’ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাংবাদিক বৈঠকের পর তিন মাইক্রো অবজার্ভারকে সাসপেনশনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
