৭ দিন ধরে ইন্ডিগোর আকাশে দুর্যোগ! সোমবারও বহু উড়ান বাতিল

Spread the love

দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন ইন্ডিগোর পরিষেবায় হঠাৎ টানাপড়েন শুরু হওয়ায় গত ৭ দিনে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে এখনও পর্যন্ত দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৪,৫০০-রও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন। যা ২০ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন রেকর্ড গড়েছে ইন্ডিগো। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের পদক্ষেপের পরেও সোমবার সকালেই দেশজুড়ে অন্তত সাড়ে তিনশো বিমান বাতিল করে দিয়েছে উড়ান সংস্থাটি। ফলে দীর্ঘ সারি, লাগেজ না পাওয়া, খাবার–জলের অভাব, সব মিলিয়ে বিমানবন্দরগুলি কার্যত বিশৃঙ্খল।

সপ্তাহজুড়ে বিমান বাতিলের তালিকা

১. মঙ্গলবার : ১৫০টিরও বেশি বিমান বাতিল

২. বুধবার : প্রায় ২০০টি বিমান বাতিল

৩. বৃহস্পতিবার : উল্লেখযোগ্য হারে আন্তর্জাতিক-সহ ৩০০-রও বেশি বিমান বাতিল

৪. শুক্রবার : প্রায় ১,৬০০০ বিমান বাতিল, যা একটি সর্বোচ্চ

৫. শনিবার : প্রায় ৮৫০টি বিমান বাতিল

৬. রবিবার : প্রায় ৬৫০টি বিমান বাতিল

৭. সোমবার : দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ে ইতিমধ্যে ৩০০ টিও বিমান বাতিল

বিমানবন্দরগুলিতে বিশৃঙ্খলা

দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, কলকাতা, মুম্বই বিমানবন্দর থেকেই উড়ছে না ইন্ডিগোর বহু বিমান। সব মিলিয়ে সোমবার সকালে ইন্ডিগো বিমান বাতিলের সংখ্যা ৩৬০। তারমধ্যে-

১. বেঙ্গালুরু: ১২৭টি বিমান বাতিল

২. চেন্নাই : ৭৭টি বিমান বাতিল

৩. দিল্লি : ১৩৪টি বিমান বাতিল

এই অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার যাত্রী প্রধান বিমানবন্দরগুলিতে আটকা পড়েছেন। দ্রুত পরিষেবা উন্নত করার জন্য ডিজিসিএ অতিরিক্ত ক্রু নিয়োগ-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছে বিমান সংস্থাটিকে।

ইন্ডিগো-র সঙ্কটের কারণ কী?

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে পাইলট এবং বিমানকর্মীদের কাজের সময় এবং বিধি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ নামের ওই বিধি ১ নভেম্বর থেকে চালু হয়েছে। আর তাতেই বিপাকে পড়েছে ইন্ডিগো। এই নিয়মবিধি মেনে উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছিল না তাদের। অন্য বিমানসংস্থাগুলির তুলনায় কিছুটা সস্তায় যাত্রীদের উড়ান পরিষেবা দিয়ে থাকে ইন্ডিগো। তাদের অনেক বিমানই রাতে অবতরণ করে। তাই নয়া বিধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এই বিমানসংস্থাই। নয়া বিধি মেনে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে যত সংখ্যক কর্মী এবং পাইলট প্রয়োজন, বর্তমানে তা ইন্ডিগোর নেই। ফলে চরম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যার জেরে যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ডিজিসিএ-র পদক্ষেপ

ইন্ডিগো বিমান সংস্থার মহাবিপর্যয়ের পর সংস্থার সিইও পিটার এলবার্সকে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছে দ্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। গত কয়েকদিনে হাজারের বেশি উড়ান বাতিলের কারণ জানতে চেয়ে শনিবার তাঁকে শো-কজ করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে শো-কজের উত্তর দিতে হবে এবং কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না তা জানাতে বলা হয়েছে। ডিজিসিএ-র বক্তব্য অনুসারে, ইন্ডিগো সংস্থা এয়ারক্রাফট বিধি ১৯৩৭-এর বিধি ৪২এ মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত বিমান কর্মীদের কাজ এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে এই বিধি। ডিজিসিএ-র নোটিশে বলা হয়েছে, ‘সিইও হিসেবে আপনি বিমান সংস্থার কার্যকর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকলেও নির্ভরযোগ্যভাবে কার্যক্রম পরিচালনা এবং যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন।’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ইন্ডিগো ও অন্যান্য বিমান সংস্থাকে অতিরিক্ত ভাড়া কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোর বিমান উড়ান বিপর্যয়ের পর অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে বিমানভাড়া আকাশ ছুঁয়েছিল। এছাড়াও আগামী দু’দিনের মধ্যে ইন্ডিগোকে উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *