26000 Job Cancel Update। চাকরি নেই! চায়ের দোকানে পরীক্ষার খাতা রেখে বাড়ি গেলেন স্যার

Spread the love

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের অচিন্ত্য নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম শ্রীপতিনগর ডক্টর বিসি রায় মেমোরিয়াল হাইস্কুল। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে ছিলেন ৭জন। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে ৬জনের। তার মধ্য়ে ৪জন শিক্ষক আর ২জন অশিক্ষক কর্মচারী। চাকরি রয়েছে একমাত্র টিচার ইন চার্জের। কিন্তু একলা তিনি স্কুল চালাবেন কীভাবে? একলা তিনি কীভাবে ক্লাস নেবেন?

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর শুক্রবার সকালে দেখা যায় চাকরি যাওয়া শিক্ষকরাও হাজির হয়েছিলেন স্কুলে। তবে স্কুলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। এই স্কুলের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল জীবনের একটা বড় অংশ। জীবনের অনেক ওঠাপড়ার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল এই স্কুলটা। কিন্তু সেই স্কুল থেকে চাকরি গিয়েছে তাঁদের।

এবার ফের পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু সেটাও তো অনিশ্চয়তা। চরম অনিশ্চয়তা। কীভাবে সামাল দেবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না তাঁরা। তবে স্কুলের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে বুকে একরাশ কষ্ট নিয়েও তাঁরা স্কুলে আসেন এদিন। রাতারাতি জীবনটা বদলে গিয়েছে।

একেবারে হাউহাউ করে কাঁদতে থাকেন শিক্ষকরা। জীবনবিজ্ঞানের এক শিক্ষক পুষ্পেন্দু পাল বলেন, অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের চাকরি চলে গেল। এর দায় কে নেবে। এর দায় ভার কে নেবে। বউ বাবা মা, সন্তান তাদেরকে কীভাবে চালাব। হা হুতাশ করে কান্নাকাটি করছি। নিজেকে শক্ত করছি. এছাড়া উপায় নেই। বাচ্চাদের পরীক্ষা হচ্ছে। সেকারণে ছুটে এলাম। আমার বাড়ি সবং পশ্চিমমেদিনীপুর। তবে পাশেই থাকি। স্কুলের টানে চলে এলাম। আমি পরিবার নিয়ে থাকি এখানে। সরকার দায়ী। রাজনৈতিক দল স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বলির পাঁঠা হতে হল আমাদের। আমরা দিশা ২০১৯ সালের ১ মার্চ আমি এই স্কুলে যোগ দিয়েছিলাম। তারপর থেকে এতদিন স্কুলে রয়েছি। কিন্তু একেবারে পথে বসে গেলাম এবার।

স্কুলের টিচার ইন চার্জ পার্থসারথী মিশ্র বলেন, অনেক কষ্টে আমাদের স্কুলের উচ্চমাধ্যমিকের পারমিশন মিলেছে। আমাদের মাত্র ৫জন স্থায়ী শিক্ষক। একজন গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি ছিলেন। আমাদের টিচারের মধ্য়ে চারজনই চলে যাওয়ার অবস্থা। ৬০০-এর উপর আমাদের পড়ুয়ার সংখ্য়া। তাঁরা এসেছেন। আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার কষ্ট হবে। পরীক্ষা চলছে। তারপর খাতা দেখা। গতকাল একজন স্যার তো খবর শুনে আমি ছিলাম না, আমার বাড়ির পাশে চায়ের দোকানে ক্লাস নাইনের ইংরেজি পরীক্ষার খাতা রেখে চলে গেলেন হাওড়ার বাড়িতে। সেই খাতা দেখবেন কে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *