5 Pak, 1 B’deshi Arrested। ইরানি মিসাইলের প্রশংসায় হাতে হাতকড়া! পশ্চিম এশিয়ার দেশে গ্রেফতার ৫ পাকিস্তানি

Spread the love

পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ইরানের মিসাইল এবং ড্রোন আছড়ে পড়ছে। এই আবহে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতি, সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ভাবমূর্তি খুণ্ণ হচ্ছে। এই দেশগুলি বারবার দাবি করে আসছে, ইরানের অধিকাংশ মিসাইল এবং ড্রোন তারা ধ্বংস করছে। যা কিছু ক্ষতি হচ্ছে, তা নাকি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে হচ্ছে। তবে এরই মাঝে আবার পশ্চিম এশিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের মিসাইলের ভিডিয়ো করতে বারণ করেছে দেশগুলি। সোশ্যাল মিডিয়া যুগে যেন তেন প্রকারে নিজেদের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে চাইছে এই দেশগুলি। তবে এরই মাঝে বাহরাইনে বসে ইরানি মিসাইল ও ড্রোনের প্রশংসা করায় গ্রেফতার করা হল ৫ পাকিস্তানি এবং ১ বাংলাদেশিকে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানি মিসাইল এবং ড্রোন হামলার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করেছিল এই ৬ জন। এবং ইরানি হামলার ‘মিথ্যা প্রশংসা’ করে এই ৫ পাকিস্তানি এবং ১ বাংলাদেশি। ইরানের আগ্রাসনের প্রতি সমর্থনের কারণেই এই ৬ বিদেশিকে গ্রেফতার করেছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। ধৃত ৫ পাকিস্তানির নাম হল – মহম্মদ মোয়াজ আকবর, আফজাল খান, আহমেদ মুমতাজ, আরসালান আলি সাজিদ এবং আবদুল রহমান আবদুল সত্তর। এবং ধৃত বাংলাদেশির নাম হল মহম্মদ ইশরাফেল মীর।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত, ইরানের হামলার পরে বাহরাইনের পাঁচ তারা হোটেল কমপ্লেক্স ‘ক্রাউন প্লাজা মানামা’ থেকে কালো ধোঁয়ার মেঘ দেখা গিয়েছে। ইরানের ড্রোন হামলায় একটি জলের প্ল্যান্টের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। বাহারাইনে তেল সংশোধনাগারেও আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল। সব মিলিয়ে ইরানের মারে বাহরাইনের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এখনও পর্যন্ত।

তবে ইরানি হামলায় নিজেদের দেশে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি লোকাতে বদ্ধপরিকর বাহরাইনের মতো দেশগুলি। বিনিয়োগ হারানোর ভয়ে তারা এখন আতঙ্কিত। এই আবহে ইরানি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম এশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধাদের সঙ্গে কথা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এদিকে ইরানি হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির অর্থনীতি কার্যত থমকে যাওয়ার অবস্থায়। তাদের তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে পারছে না, আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল করছে না।

পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে হামলার জন্য ‘ক্ষমা’ চেয়েছিলেন। তাঁর সাফ বক্তব্য ছিল, প্রতিবেশী দেশে হামলা চালালেও ইরান আদতে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ছে। সেই ‘ক্ষমা’ আদতে বার্তা ছিল- ইরানের বিরুদ্ধে যদি আরব দেশগুলি আমেরিকাকে সাহায্য করে, তাহলে তাদের কপাল এভাবেই পুড়তে থাকবে। তবে সেই ‘ক্ষমাপ্রার্থনা’কে আমেরিকার বন্ধুরাষ্ট্রগুলির (আরব রাষ্ট্রগুলির) কাছে ইরানের ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। এরপরেই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে ফের ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়েছিল। আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের ‘চোখ-কান’ হারিয়েছে আমেরিকা। এবং আমেরিকার সাতজন সেনা এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধে। সব মিলিয়ে আমেরিকার এখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও তারা এই যুদ্ধে ফেঁসে গিয়েছে বলে অনেকের মত। আর পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি সরাসরি এই সংঘাতে অংশ না নিয়েও চাপে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *