Share Market Update। শেয়ার বাজারে বড় ধস! এক দিনেই ৪ লক্ষ কোটি টাকা উধাও

Spread the love

সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপে এক ধাক্কায় ৯২০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স। অন্য দিকে, নিফটি ৫০ কমল ২৭৫ পয়েন্ট। এর জেরে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার বাজারমূল্য কমে গেল। গত সপ্তাহে টানা দু’দিন বাজারে উত্থান দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। বেসরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ারে পতন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি— এই তিন কারণে বাজারে চাপ বাড়ল।

ব্যাঙ্কের শেয়ারে বড় ধাক্কা

সোমবারের পতনের অন্যতম কারণ বেসরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রি। বিশেষ করে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ারে পতন বাজারকে নীচে নামিয়ে দেয়। এই তিনটি ব্যাঙ্কের শেয়ারের পতন সেনসেক্সের মোট পতনের অর্ধেকেরও বেশি অংশের জন্য দায়ী ছিল বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

দিনের লেনদেনে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ারও প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে। সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ব্যাঙ্কগুলির আয় ও ব্যবসার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক সূচকেও। সূচকটি প্রায় ১.৭ শতাংশ কমে যায়। শুধু বড় সংস্থার শেয়ারই নয়, মাঝারি ও ছোট সংস্থার শেয়ারেও পতন হয়েছে। অর্থাৎ বাজারের দুর্বলতা কয়েকটি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

তেলের দাম বাড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

বাজারে পতনের দ্বিতীয় বড় কারণ অপরিশোধিত তেলের দাম। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ থেকে ১০৯ ডলারের মধ্যে ছিল। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ভারতের মতো যে দেশকে প্রয়োজনের বড় অংশের তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, তাদের জন্য তেলের দাম বাড়া উদ্বেগের বিষয়। এতে দেশের আমদানি খরচ বাড়ে। টাকার উপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও বাড়ে। পরিবহণ, বিমান পরিষেবা এবং জ্বালানির উপর নির্ভরশীল সংস্থাগুলির খরচও বেড়ে যেতে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি

বাজারে চাপ বাড়িয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রিও। অক্টোবর মাসে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫২,১০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও তাঁরা প্রায় ৩৫,৮৬১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। আমেরিকায় বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত-সহ উদীয়মান অর্থনীতির বাজারে সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

এখন কোন দিকে নজর?

আগামী দিনে বাজারের গতিপথ নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের উপর। ব্যাঙ্ক-সহ বড় সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক ফলাফল, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের দিকে নজর রাখবেন বিনিয়োগকারীরা। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বাজারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, গত সপ্তাহের উত্থানের পর সোমবারের পতন বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি নিয়ন্ত্রণে না এলে বাজারে চাপ বজায় থাকার আশঙ্কা থাকছে। তবে আগামী দিনের বাজার কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে নতুন আর্থিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *