নবমীর সন্ধ্যায় ভবানীপুরে মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোয় হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর মল্লিকবাড়ির পুজো দেখে রীতিমতো মুগ্ধ শুভেন্দু। প্রশংসার সুরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘পুজোর কোনও বদল করেনি। সব আগের মতোই রেখেছে। এগুলি ভালো। বাংলায় এইরমক পুজো থেকে যাওয়া উচিত।’
সঙ্গে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘আমি রঞ্জিত মল্লিকের আমন্ত্রণে এসেছি। এর সঙ্গে কোয়েলের কোনও সম্পর্ক নেই। হ্যাঁ, কোয়েল এখন বিজেপি রাজ্যসভায়… তবে আমাকে মাননীয় রঞ্জিত মল্লিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।’ কোয়েল সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে যখন উপস্থিত হয়েছিলেন রঞ্জিত, তখনই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বাড়ির দুর্গাপুজোয় আসার জন্য।
আর সেখান থেকে বেরিয়ে রঞ্জিত মল্লিকের পারিবারিক পুজোর প্রশংসা করে বললেন, ‘আমি খুব সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম, এখন আমি এখানে এলাম। নারকেল নাড়ু খেলাম। পুরোনো বাড়ির ঐতিহ্য আছে, এতটুকু বদল ঘটায়নি। একদম পুরো দেখে এলাম, একদম দেড়শো বছরের পুরোনো বাড়ি, একশো দু’বছরের প্রাচীন পুজো। এই ঐতিহ্যটা বাংলার থাকুক। এটা খুব ভালো। মানে উনি চাইলেই বা ওই জায়গাটা প্রোমোটারকে দিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু দেখলাম যে না মেইনটেন করেছে। এখনো কিছু লোকজন আছে যারা ঐতিহ্য এবং পরম্পরার সঙ্গে সমঝতা করেন না তার মধ্যে রঞ্জিত মল্লিক অন্যতম।’
মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজো শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও বনেদি বাড়ির পুজো। ১৯২৫ সালে শুরু হয় এই পুজো রাধাগোবিন্দ মল্লিকের পুত্র সুরেন্দ্রমাধব মল্লিকের হাত ধরে। তবে সেইসময় পুজো হত হুগলির গুপ্তিপাড়ায় তাঁদের আদি নিবাসে। এরপর ভবানীপুরে পুজো শুরু হলেও, পুরনো সংস্কার ও নিয়ম অটুট রয়েছে এখনো। জন্মাষ্টমীর দিন দেবীর কাঠামো পুজোর মাধ্যমে প্রস্তুতি শুরু হয় মল্লিক বাড়িতে। একচালা সাবেকি এক প্রতিমায় ডাকের সাজে সজ্জিত থাকেন দেবী দুর্গা। তবে প্রতিমার সাজসজ্জার ক্ষেত্রে রয়েছে এক চমকপ্রদ নিয়ম— দেবীর গায়ে সোনার অলঙ্কার পরিয়ে দেন বাড়ির মেয়েরা। আর দেবীর হাতে অস্ত্র দেন বাড়ির পুরুষরা। হয় কুমারীপুজো ও সন্ধিপুজো। ষষ্ঠী টু নবমী, বাড়ির সকলেই খান নিরামিশ। আর দশমীর স্পেশাল ভোজে থাকে মেটে চচ্চড়ি। প্রতিবার পুজের কটা দিন পরিবারের সঙ্গে হুল্লোড় করে পুজো কাটান কোয়েল। এমনকী, নিসপাল ও দুই খুদে কাব্যা ও কবীরও সর্বক্ষণ মেতে থাকে পুজো আমেজে।
