দুর্গাপুজোয় মহাষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে যে ছুটির রীতি ছিল, তা আগামী বছরের দুর্গাপুজো থেকে থাকবে না। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট করে একথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো, টানা ১০ দিন ধরে সরকারি হাসপাতালে দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে যে ছুটির রীতি ছিল, তাতে এবার ইতি টানল শুভেন্দু সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়া বন্ধ হোক। এত দিন ধরে এটা রীতি-রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো হাসপাতালে একটা ছুটি-ছুটি ভাব ছিল। এটাই চলে আসছিল।’ প্রায় ৭৯ বছর ধরে এই রীতি চলে আসছিল রাজ্যে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘পরের বার থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমীর জন্য শুধু পুজো রস্টার হবে। আজ থেকেই যাঁরা ছুটিতে ছিলেন তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, ২০২৬ দুর্গাপুজোর সময় চোরবাগানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে বহু প্রশ্ন ওঠে। তার জবাবও দেয় শুভেন্দু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে বলেন, ‘রোগীর মৃত্যু ঠেকানোই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল।’
এদিকে, আজ শুক্রবার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, এই বছরই বাকি সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে সাফাইকর্মী, সকলেই কাজে ফিরে এসেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছর থেকেই চার দিনের জন্য স্পেশ্যাল রস্টার হয়েছিল।

এদিন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক-নার্সদের কোনও রস্টার হবে না। প্রয়োজন মতো হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে হবে। আগেভাগে ছুটি ঠিক করা থাকবে না। শুক্রবার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শারদ্বত। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাফ বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী মানেই মানুষের কর্মচারী। জনগণনের রাজস্বেই তো পরিষেবা চলে। স্বাস্থ্যদপ্তর তো আপৎকালীন দপ্তর। আমাদের কোনও উৎসব নেই। আমাদের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে।’