Chorbagan Announcer Wife on Arrest: চোরবাগানের পুজোয় পদপিষ্টের ঘটনায় আরও এক ঘোষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, লালবাজারে বাবু ওরফে কুশল মজুমদার নামে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর তারইমধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাবুর স্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী নাকি বলেছিলেন যে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ একজন তাঁকে তৎক্ষণাৎ সেই কাজটা করতে বারণ করেছিলেন। ২৭ তারিখের আগে তাঁর স্বামীকে থানায় যেতে বারণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ধৃতের স্ত্রী।
‘বিপর্যয়ের পরই বাড়িতে এসেছিল’
সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দের সাক্ষাৎকারে মহিলা বলেছেন, ‘ঘটনার পরেই ও জামাকাপড় ছেড়ে আবার মাঠে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ যে বিপদে পড়েছে, তাঁদের সাহায্য করার জন্য সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে আর বাড়িতে আসেনি।’ সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘ও আমায় বলল যে আমি থানায় যেতে চাইছি। কিন্তু আমায় কেউ বারণ করছে যে ২৭ তারিখের আগে থানায় যাস না। আমি তার জন্য সামনে আসছি না। আমি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসব।’
২৭ তারিখের আগে থানায় না যেতে বলার ‘নির্দেশ’ কার?
মহিলা দাবি করেছেন, চোরবাগান বিপর্যয়ের পরই হাফপ্যান্ট, স্যান্ডো গেঞ্জি, গামছা নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বাবু। জুতোও পরেননি। তারপর পালিয়ে গিয়েছিলেন। কোথায় পালিয়ে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। তবে সেইসময় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। ফোন করে বাবু আশ্বস্ত করেছিলেন যে চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু তাঁর স্বামীকে ঠিক কে ২৭ তারিখের আগে থানায় না যাওয়ার ‘নির্দেশে’ দিয়েছিলেন, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন মহিলা।

মাইকে ঘোষণা, আতঙ্ক ও ১৯ জনের মৃত্যু
আর সপ্তমীতে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে গিয়ে যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে, তার নেপথ্যে মাইকে করা একটি ঘোষণার বড় ভূমিকা আছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যেই মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’। তারপরই আতঙ্ক ছড়ায়। মৃত্যু হয় একাধিক নাবালক-সহ ১৯ জনের। মুহূর্তের মধ্যে পুজোর আনন্দ পরিণত হয় ভয়াবহ বিষাদে।
তারপর থেকেই ওই ঘোষকদের খুঁজছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হচ্ছে। আর তারইমধ্যে বাবুকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।