কিছুদিন আগেই পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির পাশে থাকতে, মক্কা প্যাক্টের আওতায় থেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছে পাক সেনা। তবে পাকিস্তান সেখানে তার সেনার ক্ষমতা দিয়ে কতটা সংঘাত রুখতে পেরেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে! সদ্য, ইজরায়েলের সংবাদপত্র ‘ইজরায়েল হাইয়োম’ এক রিপোর্টে দাবি করেছে, হুথিদের হামলা থেকে রক্ষা পেতে ও শান্তি ফিরে পেতে সৌদি আরব নাকি ইরানের মারফৎ হুথিদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে, এই খবর যখন বিশ্ব জুড়ে চর্চায়, তখনই হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে তারা মিসাইল হামলার শিকার বানিয়েছে সেদেশের মন্ত্রককে।
কিছুদিন আগেই, মক্কাপ্যাক্ট ভূক্ত, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে ছিলেন পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির। যাঁর নেতৃত্বাধীন সেনা সৌদিতে হুথিদের হানা রুখতে,মক্কা প্যাক্ট অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে দাবি করছে ইসলামাবাদ। এদিকে, সেই বৈঠকের পর এবার ইজরায়েলের সংবাদপত্র দাবি করছে, সদ্য সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সলমান গিয়েছিলেন ইরানে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নাকি, তাঁকে জানিয়েছে, তাঁরা এই হুথি-সৌদি ইস্যুতে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসাবে থাকতে রাজি। প্রসঙ্গত, ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথিরাই সৌদিতে সদ্য হামলা করছে। এদিকে, রিপোর্ট বলছে, ইরানের তেহরানে আয়োজিত সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদের ওই বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে সৌদি থেকে সেদেশের সেনা বাহিনীর বিমানে বিপুল ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদে নিয়ে যান বলে খবর। রিপোর্টের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে সৌদিতে হুথিদের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করাতে চাইছে সৌদি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সলমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিদের তেহরান সফরটি বর্তমান সংকটের পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে উৎসাহিত করা এবং কাতার রাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান কর্তৃক গৃহীত মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে জোটের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

এদিকে, এই রিপোর্ট যখন বিশ্ব জুড়ে চর্চায়, তখনই হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রিয়াধে সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রকের হামলা চালিয়েছে। এই হামলা তারা ব্যালাস্টিক মিসাইল দিয়ে চালিয়েছে, বলে দাবি করেছে। তারা বলছে, এই হামলা ‘ডিরেক্ট হিট’ (সরাসরি আঘাত) ছিল। এর আগে, মঙ্গলবার, হুথিদের দুটি মিসাইল হানা রুখে দেয় সৌদি।