পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের আগস্টে স্বাক্ষর করে ফেলেছে মক্কা প্যাক্ট। এই তিন দেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত বলছে, তিনটি দেশের একটিতেও কোনও অন্য শক্তি হামলা করলে, তা তিনটি দেশেই হামলার সমান বলে পরিগণিত হবে। এই প্যাক্টের পর সৌদিতে হুথি হামলা হয়েছে। জানা যায়, সৌদির পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে নিজের সেনা সক্রিয়তার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে তারপরও হুথিরা থেমে থাকেনি, সৌদিতে বহু জায়গায় হামলার দাবি করছে হুথিরা। এদিকে, এই পরিস্থিতিতে বহু দিন ধরেই বাংলাদেশ মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে পারে বলে জল্পনা চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবার তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল পাকিস্তানের সেনা অফিসার লেফ্টন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধরীর বক্তব্য।
পাকিস্তানের সেনার মুখপাত্র লেফ্টন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধরি বলেন, ‘যদি ভালোভাবে মক্কা সমঝোতা পড়েন, তাহলে বুঝতে পারবেন, সেখানে কারোর যোগদান করা বা না করা নিয়ে কোনও বাধা নেই।’ তিনি বলছেন, ‘যাঁরাই একই দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়তে বা আঞ্চলিক শান্তি চান, তাঁরা কেন যোগ দেবেন না? সকলেই স্বাগত।’ উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পর্যন্তও বাংলাদেশ, মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। কিছু দিন আগে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমেরিকায় গিয়ে জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন। তার কয়েক দিন আগে, তারেক সরকারের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে তিনিও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বৈঠক করেন। কিছু আগে পর্যন্তও জানা যায়, সৌদি আরবে এবার সফর করতে চলেছেন তারেক রহমান। এছাড়াও তুরস্কেও তাঁর সফর করার কথা রয়েছে। আর এই তুরস্ক ও সৌদি, দুই দেশই রয়েছে মক্কা প্যাক্টের অধীনে। তবে, তারেক কবে সৌদি আরব যাচ্ছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, পাকিস্তানের সেনার মুখপাত্রের বক্তব্য ঠিক এমন এক সময় এল, যখন, পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির ইরান সফর করেন। এই মাসে এই নিয়ে তাঁর দ্বিতীয় সফর ইরানে। সেখানে তিনি তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ও সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে নিয়ে সফর করেছেন।

তবে সৌদিতে হুথি হামলার প্রেক্ষিতে মক্কা প্যাক্টের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করলে, পাকিস্তানের আইএসপিআর-র মুখপাত্র লেফ্টন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধরি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান সৌদি আরবে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কিনা, জানতে চাইলে চৌধুরী বলেন, তা উভয় দেশের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ইঙ্গিতবহভাবে পাকিস্তানের সেনার এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ইয়েমেনের সংঘাতের অংশ নই, এটি ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ একটি সংঘাত।’