বঙ্গোপসাগরে থেকে ধেয়ে আসছে আরও এক সাইক্লোন (ঘূর্ণিঝড়)। ‘ব্যাক টু ব্যাক’ (পরপর) এই ঘূর্ণিঝড় ফের একবার অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ, রবিবারই নিজেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত করেছে। এবার সে সাগরে ফুঁসছে, আর উপকূলে আছড়ে পড়ার জন্য ধেয়ে আসছে!
‘মুরাসু’ আসলে কী! শব্দের অর্থ কী..
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের নিশানায় অন্ধ্রপ্রদেশ। গত সপ্তাহতেই অন্ধ্রের দিকে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এবার আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এই ‘মুরাসু’ শব্দটির অর্থ কী? এমন প্রশ্ন অনেকেরই মনে। এই শব্দটি একটি তামিল শব্দ। এই শব্দের অর্থ হল, ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্র দিয়ে দুর্যোগ সম্পর্কে বা কিছু ঘোষণা করতে, সকলকে সচেতন করা হয়ে থাকে। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধ বাদ্য হিসাবেও ধরে নেওয়া হয়। সঙ্গম সাহিত্য ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী মুরাসু মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি হল, বীরা মুরাসু, যা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত রণদামামা বা সামরিক ড্রাম হিসাবে ব্যবহৃত হত। আরেকটি হল, ত্যাগা মুরাসু। এটি হল উপহার প্রদান বা দরিদ্র মানুষদের খাদ্য ও সামগ্রী দেওয়ার আহ্বানে ব্যবহৃত বাদ্য। তৃতীয়টি হল, ন্যায় মুরাসু। এটি মূলত, বিচারকার্য পরিচালনা এবং জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র।উল্লেখ্য, এই ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র নামকরণ করেছে ভারত।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) তার সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ১ নভেম্বর সকাল ১১.৩০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল। আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার এবং ২ নভেম্বর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও তীব্র হয়ে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২রা নভেম্বর রাত এবং ৩রা নভেম্বর ভোরের মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় রূপে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবহবিদরা মনে করছেন, এই ঝড়ের গতিবেগ উপকূলের দিকে থাকবে, ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। পরে দমকা হাওয়ার বেগ ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারে। ঝড়ের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে ওড়িশায়। সেখানে মোতায়েন রয়েছে এনডিআরএফ সহ প্রয়জনীয় বাহিনী। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ এই ঝড় মোকাবিলায় যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২ নভেম্বর থেকে ওড়িশায় বৃষ্টি হবে এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
