শনিবার গভীর রাতে বাংলাদেশের ঢাকার বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাংলাদেশের সেনার প্রাক্তন মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে। তাঁকে ঢাকার পুলিশের গোয়েন্দা শাখা গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বাংলাদেশে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে সেদেশের বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী তাহাসিফ সৌরির মৃত্যু। সদ্য তাঁর দেহ বাংলাদেশের তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হয়। তাহাসিফের মৃত্যু ঘিরে ক্রমেই ঘনাচ্ছে রহস্যের জটাজাল। সেই রহস্য মৃত্যুর খবরের মধ্যেই বাংলাদেশের সেনার প্রাক্তন মেজর হাফিজের গ্রেফতারিও চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কার্যক্রম ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম রোববার সকালে বলেন, ‘তিনি এখন ডিবিতে আছেন।’ ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) আকতার হোসেন বলেন, বনানী থেকে হাফিজকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালানোর অভিযোগে মামলা হতে পারে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামি লিগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন হাফিজসহ সামরিক বাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা। আর শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঠিক আগে, বাংলাদেশের সেনার এই প্রাক্তন মেজরের গ্রেফতারির ঘটনা ঘটে গেল। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে ডিসেম্বর মাসে ফিরবেন। ঠিক তার আগে, বাংলাদেশের বায়ুসেনার এক কর্মী তাহসিফের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এরপর সেই মৃত্যুর ঘটনার কয়েকদিন পরই বাংলাদেশে প্রাক্তন মেজর হাফিজের গ্রেফতারির ঘটনা ঘটে গেল।
এদিকে, তাহাসিফের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে তাঁর বন্ধু দীপকে জেরা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। দীপের সঙ্গেই বাড়ি থেকে শেষবার বেরিয়েছিলেন তাহাসিফ বলে খবর। তদন্তকারীরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, ঘটনার দিন টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পোশাক পরা দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখে তাঁরা দৌড়ে দুইদিকে চলে যান। এরপর তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন বলে, দীপের দাবি। তবে ওই পুলিশকর্তারা কারা, কেন তাড়া করেছিলেন সেদিন, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরের এখনও অপেক্ষা রয়েছে।
