Indian Navy Latest Update। নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াতে ৫৩৮৬৬ কোটির চুক্তি ভারতের

Spread the love

সমুদ্রপথে দেশের নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য তৈরি করা হবে আটটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এই প্রকল্পে খরচ হবে ৫৩ হাজার ৮৬৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। সোমবার, ২ নভেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) এবং গোয়ার গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (জিএসএল) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আটটি যুদ্ধজাহাজের নাম দেওয়া হয়েছে নেক্সট জেনারেশন করভেট (এনজিসি)। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যকেও আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের চুক্তি অনুযায়ী, আটটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে পাঁচটি তৈরি করবে কলকাতার জিআরএসই। বাকি তিনটি তৈরি করবে গোয়া শিপইয়ার্ড। এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হল, যুদ্ধজাহাজগুলির নকশা তৈরি করবে ভারতীয় নৌবাহিনী নিজেই। আর সেই নকশা অনুযায়ী জাহাজ তৈরি করবে দেশের দুই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মাণকারী সংস্থা বেছে নিয়ে নৌবাহিনীর নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কী কী বিশেষত্ব থাকবে এই যুদ্ধজাহাজগুলিতে? প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং উন্নত সেন্সর ব্যবস্থায় সজ্জিত থাকবে এই করভেটগুলি। আকাশ, সমুদ্রের উপরিভাগ এবং সমুদ্রের গভীরে থাকা শত্রুপক্ষের গতিবিধির মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে এই যুদ্ধজাহাজ। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সমুদ্রে থাকা যুদ্ধজাহাজ এবং ডুবোজাহাজের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানোর ক্ষমতা থাকবে এগুলির।

ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিযান চালানোর ক্ষমতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ এবং ডুবোজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান, উপকূলবর্তী এলাকায় নজরদারি এবং সমুদ্রসীমা রক্ষার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই আটটি করভেট। পাশাপাশি উপকূলের কাছাকাছি সামরিক অভিযান চালানো এবং সমুদ্রে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরদার করতেও ব্যবহার করা হবে এগুলিকে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধজাহাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রকল্পের হাত ধরে প্রতিরক্ষা শিল্পেও বড় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে জাহাজ নির্মাণের কাজে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবস তৈরি হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। শুধু জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থাগুলিতেই নয়, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রেও প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবসের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বহু শিল্প সংস্থা এবং কর্মী এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশীয় কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি এবং ভারতীয় দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই এই যুদ্ধজাহাজগুলি তৈরি করা হবে। এর ফলে বিদেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর পথ আরও প্রশস্ত হবে।

সব মিলিয়ে, ৫৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি নয়, দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্যও বড় মাইলফলক। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষার লক্ষ্য পূরণে আটটি নেক্সট জেনারেশন করভেটের নির্মাণ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Reply