২০৪০ সালের মধ্য়ে বায়ু দূষণের ফলে সৃষ্টি হওয়া নানা ধরে স্বাস্থ্যহানি যত দূর সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। এবং ভারত সেটা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা ভারতের জাতীয় পরিশ্রুত বায়ু কর্মসূচির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহরে আয়োজিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর বায়ু দূষণ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দ্বিতীয় সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে একথা বলল ভারত।
এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিনিধি আকাশ শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এবং আগামী দিনে সরকারের তরফে আরও বেশি করে রান্নার কাজে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করতে আমজনতাকে, বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা ও দুর্বল জনগোষ্ঠীগুলিকে উৎসাহিত করা হবে।
শ্রীবাস্তব তাঁর বক্তৃতায় আরও জানান, ২০৪০ সালের মধ্য়েই যাতে বায়ু দূষণের ফলে সৃষ্টি হওয়া স্বাস্থ্যহানি ও অসুস্থতাগুলিকে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণ মন্ত্রক। যা ভারত সরকারের জাতীয় পরিশ্রুত বায়ু কর্মসূচির আওতাধীন। বলা হচ্ছে, বায়ু দূষণের ফলে স্বাস্থ্যহানি অন্তত ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যাতে বায়ু দূষণ ও তার ফলে হওয়া অসুখগুলি সম্পর্কে সচেতন হয়, তার জন্য নজরদারিব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। রান্নার কাজে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল জনগোষ্ঠীগুলিকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এবং সঙ্কটে থাকা রোগীদের স্বার্থে চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সহযোগিতা করা হবে।
তবে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত যে দাবিই করুক না কেন, তথ্য বলছে – সম্প্রতি রাজ্যসভায় একটি রিপোর্ট পেশ করে সরকার পক্ষ। এই রিপোর্ট পেশ করা হয় – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, অরণ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে। তা থেকে জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে (যা ৩১ মার্চ, ২০২৫ শেষ হয়ে যাবে) দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ৮৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা এখনও অব্যবহৃত অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে!
অন্যদিকে, হু-এর এবারের সংশ্লিষ্ট সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ, শহর ও সংস্থা অঙ্গীকার করেছে যে তারা দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করবে।
যদিও বিভিন্ন সরকারি প্রতিনিধি, রাষ্ট্র সংঘের একাধিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ, বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্য সংগঠন মিলিয়ে এবারের এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল ৭০০-রও বেশি।