মঙ্গলবার ছিল তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের লোকজন। বুধবার থেকে নতুন জীবন হওয়ার কথা ছিল। চাকরি থেকে অবসর। আর অবসরের শেষ দিনেই অন ডিউটি অবস্থায় মৃত্যু হল এক মালগাড়ির চালকের। ঝাড়খণ্ডে(Jharkhand) মালগাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাংলার বাসিন্দা ওই মালগাড়ি চালকের।
মৃত চালকের নাম গঙ্গেশ্বর মাল। মালগাড়ির চালক হিসাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই চাকরি করছেন। মঙ্গলবার ছিল কর্মজীবনের শেষ দিন। মঙ্গলবার ভোরে তিনি মালগাড়ি চালিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে ফরাক্কার দিকে ফিরছিলেন তিনি। আর ফেরার পথেই দুর্ঘটনায় পড়ল ওই মালগাড়ি। মৃত্যু হল মালগাড়ি চালকের। মৃত চালকের বাড়ি ছিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে।
সূত্রের খবর, গোড্ডা জেলার লালমাটি এলাকা থেকে কয়লা বোঝাই মালগাড়ি আসছিল ফরাক্কার এনটিপিসির দিকে। এদিকে সেই সময় ঝাড়খণ্ডে লুপলাইনে ছিল খালি মালগাড়ি। দুটি মালগাড়ির মধ্যে একেবারে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার জেরে দুটি গাড়ির চালকের মৃত্য়ু হয়। একজনের নাম গঙ্গেশ্বর মাল ও অপরজনের নাম অম্বুজ মাহাতো। প্রায় ৬৫ বছর বয়সি গঙ্গেশ্বরের বাড়ি মুর্শিদাবাদে। দুর্ঘটনার জেরে আগুন জ্বলে যায়। আগুনে পুড়ে যান দুই গাড়ির চালক।
সকালে গঙ্গেশ্বরের মৃত্য়ুর খবর আসে বাড়িতে। শোকে পাথর গোটা পরিবার। কথা ছিল শেষ ট্রেনটা চালিয়ে ফিরবেন গঙ্গেশ্বর। সেই মতো অপেক্ষায় ছিল পরিবার। চাকরি জীবনে শেষবারের মতো ট্রেন চালিয়ে ফিরতেন গঙ্গেশ্বর। কিন্তু সেটা আর হল না। শেষ দিনেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা। স্ত্রী ও সন্তানরা অপেক্ষায় ছিলেন। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ফেরার কথা ছিল। ওই মালগাড়ির চালকের মেয়ে জানিয়েছেন, সকালে খবর পেয়েছিলেন যে মালগাড়িটি চালিয়ে বাবা ফিরছিলেন সেটা দুর্ঘটনায় পড়েছে। দুজনের মৃত্য়ু হয়েছে। তার মধ্য়ে একজন আমার বাবা। এরপরই ঝাড়খণ্ডের দিকে রওনা দেয় আমার ভাই ও আমার স্বামী। কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে।
মালগাড়ির দুর্ঘটনাটি কীভাবে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লুপ লাইনে কীভাবে গেল ট্রেনটি সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগে থেকে সেই লাইনে ট্রেন ছিল এটা কি জানা ছিল না? নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৬জন আহত হয়েছেন। তার মধ্য়ে চারজন সিআইএসএফ জওয়ানও রয়েছেন। সব মিলিয়ে এই মালগাড়ি দুর্ঘটনাকে ঘিরে নানা উদ্বেগ দানা বেঁধেছে। এর পেছনে কী ধরনের গাফিলতি ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।