বুধবার ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত শুরুতেই। আজ সংসদের নিম্নকক্ষে এই বিলটি পেশ করেন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এরপর ৮ ঘণ্টা ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে উভয় কক্ষে। তারপর এটির ওপর ভোটাভুটি হবে। এদিকে এই বিল পেশের আগে কংগ্রেসের কেসি বেণুগোপাল লোকসভায় এই বিলের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের বিল (ওয়াকফ সংশোধনী বিল) যখন সংসদে আনা হচ্ছে, তখন অন্তত সদস্যদের সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া উচিত… আপনি আইনটি বুলডোজ করছেন। এই ধরনের আইন সংশোধনের জন্য আপনাকে সময় দিতে হবে। বেশ কিছু ধারা সংশোধন করতে হবে। চার জন্যে একদম সময় নেই।’
উল্লেখ্য সংশোধনী বিলে ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনে কিছু বড় পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লোকসভায় আট ঘণ্টা ধরে বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল ২০২৪-এর উদ্দেশ্য হল ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান করা। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের মতে, সংশোধনী বিলের মূল উদ্দেশ্য ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও পরিচালনার উন্নতি করা। এর লক্ষ্য পূর্ববর্তী আইনের ত্রুটিগুলি কাটিয়ে ওঠা এবং ওয়াকফের সংজ্ঞা আপডেট করা, নিবন্ধকরণ প্রক্রিয়া উন্নত করা। এর পাশাপাশি ওয়াকফ রেকর্ড পরিচালনায় প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ানোর মতো পরিবর্তনের উল্লেখও আছে এই সংশোধনী বিলে। এর মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের দক্ষতা বাড়াতে চাইছে সরকার।
প্রসঙ্গত, ওয়াকফ বলতে ইসলামি আইনের অধীনে একচেটিয়াভাবে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে নিবেদিত সম্পত্তিকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিজমি, দালানকোঠা, দরগাহ/মাজার ও কবরস্থান, ইদগাহ, খানকাহ, মাদ্রাসা, মসজিদ, প্লট, পুকুর, স্কুল, দোকানপাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এই সম্পত্তির অন্য কোনও ব্যবহার বা বিক্রয় নিষিদ্ধ। ভারতে, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়াকফ হোল্ডিং রয়েছে, ওয়াকফ বোর্ডগুলি বর্তমানে সারা দেশে ৯.৪ লক্ষ একর জুড়ে ৮.৭ লক্ষ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করে, সশস্ত্র বাহিনী এবং ভারতীয় রেলওয়ের পরে এটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম জমির মালিক হয়ে উঠেছে। সরকারের মতে, ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালে ৪০,৯৫১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।