‘ওয়াকফ সংশোধনী বিল মুসলমানদের তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের অধিকার লঙ্ঘন করবে।’ আজ সংসদে দাঁড়িয়ে এমনই দাবি করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তৃণমূলেপ পক্ষ থেকে সরকারের উপস্থাপিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করেন কল্যাণ। সেখানে তিনি ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে সংবিধান বিরোধী বলে দাবি করেন।
লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে আমি বলতে চাই, তৃণমূল কংগ্রেস এই ওয়াকফ সংশোধী বিলের বিরোধিতা করছে। আমার বক্তব্যের মূল স্পিরিট হল – তু না হিন্দু বনেগা, না মুসলমান বনেগা, ইনসানকি অউলাদ হ্যায়, ইনসান বনেগা (না হিন্দু হবেন, না মুসলিম হবেন। মানুষের সন্তান, মানুষ হতে হবে)। বর্তমানের এই বিলটি ওয়াকফের দু’টি বিষয়ের ওপর নজর দেয়। ওয়াকফের একটি কাজ হল মুসলিমদের ধর্মীয় আচার-বিচারের পরিচালনা করা, এবং দ্বিতীয় হল রাজ্য সরকারকে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ মেটানোর অধিকার দেওয়া।’
এরপর সংবিধানের ২৬ নং ধারার উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘ওয়াকফ ধর্মীয় এবং দাতব্য এটি প্রতিষ্ঠান। এই আবহে মুসলিমদের নিজেদের ধর্মীয় বিষয় পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। কারণ ওয়াকফ সম্পত্তির মালিক আল্লাহ। এই বিল মুসলিমদের অধিকার খর্ব করছে। তাই এটা সংবিধানের ২৬ নং ধারাকে লঙ্ঘন করছে।’ তিনি দাবি করেন, হিন্দু আইন ব্রিটিশ আইনকে অনুসরণ করে, এবং মুসলিম আইন মহানবির আইন অনুসরণ করে। এদিকে কল্যাণ আজ বলেন, ‘ইসলাম অত্যন্ত আধুনিক ও উদারনৈতিক ধর্ম। নমাজের জন্য কাউকে মসজিদে প্রবেশ করতে বারণ করা হয় না।’ এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ওয়াকফ আইনের ৪০ নং ধারা তুলে দিলে ওয়াকফ বোর্ড রাখারও দরকার নেই। উল্লেখ্য, ওয়াকফের ৪০ নং ধারা অনুযায়ী, বোর্ড যেকোনও জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি ঘোষণ করতে পারে।
কল্যাণ বলেন, ‘এই বিলের উদ্দেশ্যই হল মুসলিমদের সেই অধিকার খর্ব করা, তাদের ধর্মীয় কর্তব্য পালনে হস্তক্ষেপ করা। এটা সংবিধানের ২৬ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। ২৪৬ ধারার সাব ১ নং উপধারার অধীনে সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে। উপধারা ৩-র অধীনে রাজ্যেরও ক্ষমতা রয়েছে আইন প্রণয়নের। রাজ্যের অধীনে থাকা ওয়াকফ জমি নিয়ন্ত্রণের অধিকার একমাত্র রাজ্যেরই রয়েছে। কেন্দ্র এই সংশোধনীর মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তিতে রাজ্যের অধিকার খর্ব করতে চাইছে। রাজ্যের অধিকার খর্ব করতে চাইছে। এটা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। রাজ্যের ক্ষমতা এভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না।’