এসএসসি নিয়োগ ঘিরে বৃহস্পতিবার বড় রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৬ সালে এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল এদিন বাতিল করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তারই সঙ্গে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল হল। বহু প্রতিক্ষিত এই হাইভোল্টেজ মামলার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। এই রায় দানের সময় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে।
‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’র খবর অনুযায়ী, এই মামলার রায় দানের সময় কোর্টে শুনানি পর্বের সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না বলেন,’ এই মামলার ফলাফল সম্পর্কে আমরা তথ্য পর্যালোচনা করেছি। সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কারসাজি এবং জালিয়াতির দ্বারা ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বৈধতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনও কারণ নেই যে দাগি প্রার্থীদের বাতিল করতে হবে এবং নিয়োগগুলি প্রতারণার ফলে হয়েছিল এবং ফলস্বরূপ জালিয়াতি হয়েছে।’
এদিনের রায়দানে সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা বাদ যাবেন, তাঁদের বেতন দিতে হবে। এছাড়াও বড় রায়ে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, যাঁরা অন্যান্য সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০১৬ সালের এসএসসির মাধ্যমে স্কুলের চাকরিতে যোগদান করেছেন, তাঁরা তাঁদের পুরনো চাকরিতে ফিরতে পারেন।
এদিন রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যোগ্য অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তবে কোর্ট বলছে, ২০১৬ সালে যাঁরা এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা নতুন নিয়োগ পর্বে যোগ্যতার পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বেতন পাবেন। প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের ২২ এপ্রিল, ২০২৪ সালের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি চলে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের তরফে দেওয়া হয় এই বার্তা।