মার্কিন ‘লিবারেশন ডে’ তে ট্রাম্পের তরফে বিশ্বের তাবড় দেশের জন্য বিভিন্ন শতাংশের পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা ঘিরে কার্যত বাণিজ্য মহলে ঝড় উঠে গিয়েছে। এশিয়ার শেয়ার বাজারে নেমেছে ধস, সোনার দাম উর্ধ্বমুখী। এদিকে বিশ্বের দেশগুলিকে কিছুটা ‘ছাড়’ দিয়ে পারস্পরিক শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন পণ্যে যে দেশ যতটা শুল্ক চাপিয়েছে, তার বদলায় সেই দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক চাপিয়ে নয়া নীতিতে হাঁটছে ট্রাম্পের আমেরিকা। এদিকে, এই ট্রাম্পের এই শুল্ক-সুনামি আছড়ে পড়ছে বহু দেশে। দেখা যাক কোন দেশে কতটা শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়া কে সেই ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের লিস্টে রয়েছে?
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক লিস্ট:-
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক বসিয়েছে ২৬ শতাংশ। এই নিয়ে এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এক ভারতীয় অফিসার বলছেন, ‘এটা মিক্স ব্যাগ, এটা ভারতের জন্য ধাক্কা নয়।’
চিনের ওপর শুল্ক ৩৪ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর শুল্ক ২৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ওপর ১০ শতাংশ, ইউরোপিয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে ট্রাম্প সরকার। এছাড়াও বাকি দেশগুলির মধ্যে গুয়েতেমালা, নিউজিল্যান্ড, হন্ডুরাস, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, জমিনিক, আরব আমিরশাহির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। তুরস্ক, কলম্বিয়া, পেরু, কোস্টারিকা, চিলে, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মিশর, সৌদি আরব,এল সালভাদর, মরক্কো, ত্রিনিদাদ তোবাগো, ব্রাজিলের ওপরেও ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে আমেরিকার তরফে। ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছে জর্ডনের ওপর। ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছে ইজরায়েল , ফিলিপিন্সের ওপর। নিকারাগুয়ার ওপর ১৮ শতাংশ মার্কিন শুল্ক চেপেছে, ২১ শতাংশ আছে কোটে ডি আইভরির ওপর। এছাড়াও ভিয়েতনামে ৪৬ শতাংশ, তাইওয়ানে ৩২ শতাংশ, জাপানে ২৪ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইল্যান্ড এবং সুইৎজ়ারল্যান্ড থেকে আসা পণ্যের উপর নতুন নিয়মে ২৫, ৩৬ এবং ৩১ শতাংশ শুল্ক নেবে আমেরিকা। ৩২ শতাংশ দিতে হবে ইন্দোনেশিয়াকে। মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়াকে ২৪ ও ৪৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
রাশিয়া কি ট্রাম্পের শুল্ক লিস্টে আছে?
এদিকে, বিশ্বের বহু দেশের ওপর পাল্টা শুল্কের বোঝা ট্রাম্প চাপিয়ে দিলেও, রাশিয়া ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক তালিকার মধ্যে নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট অ্যাক্সিওসকে বলেন যে রাশিয়া ট্রাম্পের শুল্ক তালিকায় নেই কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যেই ‘যেকোনও অর্থবহ বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করে।’ রাশিয়ার ওপর আগেই মার্কিন বিধি আরোপিত থাকায় এই স্টান্সে রয়েছে আমরিকা। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও মরিশাস বা ব্রুনাইয়ের মতো দেশগুলির তুলনায় রাশিয়ার সাথে বেশি বাণিজ্য করে বলে দাবি রিপোর্টের। এই দেশগুলি ট্রাম্পের পাল্টা-শুল্ক তালিকার অংশ। বাস্তবে, এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনও তালিকায় ছিল এবং এর পাশাপাশি ১০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের মুখে পড়ছে তারা।