Myanmar Earthquake Update। ৫দিন ধ্বংসস্তুপের নীচে! বেঁচে ফিরলেন মায়ানমারের শিক্ষক

Spread the love

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল মায়ানমার। কার্যত মৃত্যু মিছিল মায়ানমারে। একের পর এক মৃত্যু। তবে তার মধ্য়েও এমন কিছু ঘটনা উঠে আসছে যা চমকে দেওয়ার মতো। গত শুক্রবার এই ভূমিকম্প হয়েছিল। কম্পনের মাত্রা ৭.৭। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, উদ্ধারকাজ চলছে এখনও। তবে এখনও অনেকে তাঁদের প্রিয়জনকে খুঁজে পাচ্ছেন না।

ওই প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে তিন মায়ুং হাতওয়ে নামে এক বাসিন্দাও ভূমিকম্পের জেরে ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়েছিলেন। বয়স ৪৭ বছর। প্রাইমারি স্কুলের প্রধানশিক্ষক। তিনি একটি ট্রেনিং কোর্স করার জন্য সাগায়িংয়ের গিয়েছিলেন। আর তখনই ভূমিকম্প।

তিনি সেই সময় খাটের নীচে ছিলেন। সেই সময় ভূমিকম্প। গোটা গেস্ট হাউস ভেঙে পড়ল। ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়লেন তিনি। পাঁচদিন তিনি চাপা পড়েছিলেন ওই স্তুপের নীচে। গোটা বিল্ডিং ভেঙে পড়েছিল। একেবারে গ্রাউন্ড ফ্লোরে আটকে পড়েছিলেন ওই শিক্ষক। চারদিকে অন্ধকার। তার মাঝে বের হওয়ার জায়গা নেই। তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে যাওয়ার পরিস্থিতি। এরপর শুরু হয় লড়াই। তৃষ্ণা মেটাতে তিনি নিজের মূত্র নিজে পান করেন।

উদ্ধার হওয়ার পরে তিনি জানিয়েছেন, সারা শরীর গরম হয়ে যাচ্ছিল। খালি মনে হচ্ছিল জল দরকার। কিন্তু কোথাও জল নেই। সেক্ষেত্রে শরীর থেকে যে জল বেরিয়েছিল সেটা দিয়ে তেষ্টা মেটানোর চেষ্টা করি। শেষ পর্যন্ত ভাঙা হোটেলের কাছে আসেন উদ্ধারকারীরা। তারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মায়ানমার রেডক্রশ এলাকায় আসে। মালয়েশিয়ার উদ্ধারকারী টিমও আসে এলাকায়।

তিনের বোন উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করা হয়। শেষ পর্যন্ত যখন তাঁকে উদ্ধার করা হয় তিনি কার্যত আবেগে ভেসে যান। দিদি জানিয়েছেন, আমি নাচছিলাম, কাঁদছিলাম, আমি খুব খুশি ছিলাম।

ওই ব্যক্তি এএফপিকে জানিয়েছেন, আমি মুক্ত। এটাই আমার আনন্দ। আমার মৃত্যু হয়নি। এবার আমি সব কাজ করতে পারব। এবার কি আপনি আবার আপনার পুরনো পেশায় ফিরবেন? তিনি বলেন, এবার ভাবছি বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হয়ে যাব।

আসেল এত বিপদের মাঝেও এভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার ঘটনা বিরল। তিনি জীবিত। এটাই যেন অবিশ্বাস্য। ৫দিন ধরে তিনি আটকে ছিলেন অন্ধকার ধ্বংস্তুপের নীচে। অবশেষে তাঁকে উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী টিম। খুশি তাঁর পরিবার। খুশি তাঁর আত্মীয়স্বজনরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *