তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দরে কি ফের বিনিয়োগের চেষ্টা করবে আদানি গ্রুপ? তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়ের প্রশ্নের জবাবে গৌতম আদানি ইতিবাচক কোনও উত্তর দিলেন না। সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের জন্মদিনে আদানির সঙ্গে দেখা হয় সৌগতের। সেখানে সৌগতই জানতে চান যে তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দরের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবেন কিনা। সেটার জবাবে আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার জানান, এই বিষয়টা ঠিক সুবিধার হয়নি। পরিস্থিতি ইতিবাচক নয়।
তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য নয়া গ্লোবাল টেন্ডার ডেকেছে রাজ্য
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের গোড়াতেই তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য নয়া গ্লোবাল টেন্ডার ডেকেছে রাজ্য সরকার। দরপত্র জমা নেওয়ার আগে আগামী ১৪ জানুয়ারি একটি বৈঠক হবে। তারপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দরপত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে রাজ্য সরকার। চলবে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর টেন্ডার খোলা হবে আগামী ৩ মার্চ।
সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে যে দরপত্র ডাকা হয়েছিল, তাতে যে সব শর্ত ছিল, মূলত সেগুলিই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে নয়া টেন্ডারে। সেইসঙ্গে রজ্যের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে বন্দর এবং শিল্পের পরিকাঠামো তৈরির জন্য ১,০০০ একর জমি দেওয়া হবে। যে জমির উপরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে?
তাছাড়াও নয়া টেন্ডারের নথিতে জানানো হয়েছে, তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরের নকশা তৈরি, নির্মাণ, আর্থিক লেনদেন, পরিচালনা করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। যে সংস্থাগুলি দরপত্র জমা দিতে ইচ্ছুক, তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ইতিমধ্যে ৮,০০০ কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের বন্দর প্রকল্পের কাজও করে থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। সেইসঙ্গে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে রেল এবং সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সহায়তা করবে নবান্ন।

আদানির সঙ্গে ‘ব্রেকআপ’
আর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন কোন সংস্থা অংশগ্রহণ করবে, সেদিকে সকলের নজর আছে। প্রথমবার যখন তাজপুর গভীর সমুদ্রের দরপত্র ডাকা হয়েছিল, তখন নির্মাণের বরাত পেয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু ২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য নতুন করে টেন্ডার ডাকা হবে।