মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের সামনে গুলি চালানোর ঘটনায় আলোড়ন ছড়িয়েছে। বন্দুকধারী সেখানে থাকা ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুরুতর আহত করে। হোয়াইট হাউসের দাবি, উভয় সদস্যই প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অন্যদিকে সন্দেহভাজনও আহত হয়েছেন বলে একাধিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে। তারইমধ্যে ওই ধৃত সন্দেহভাজনের পরিচয় নিয়ে নানা তথ্য উঠে আসছে।
সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্দুকধারীকে এশিয়ান তথা আফগান বংশোদ্ভূত রহমানউল্লাহ লাকানওয়াল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বয়স ২৯। অভিযুক্ত ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এফবিআই ঘটনাটিকে জঙ্গি হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। হোয়াইট হাউসে গুলিবর্ষণের অভিযুক্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
একইভাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে বিষয়টির সঙ্গে অবহিত তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে রহমানুল্লাহ আদতে আফগানিস্তানের মানুষ। ‘অপারেশন অ্যালিস ওয়েলকাম’ কর্মসূচির মাধ্যমে আমেরিকায় এসেছিলেন ২০২১ সালে। আর ওয়াশিংটনের বেলিংহামে থাকছিলেন।
আসলে ‘অপারেশন অ্যালিস ওয়েলকাম’ চালু হয়েছিল ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেন। সেই কর্মসূচির আওতায় তালিবান ক্ষমতা দখলের পরে আফগানিস্তান থেকে যে নাগরিকরা পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের আমেরিকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সব আফগানদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। ‘বিপদের মুখে থাকা আফগানদের’ সুরক্ষিত জায়গা প্রদানের লক্ষ্যেই সেই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। আর ওয়াশিংটনের গুলি চালানোর ঘটনার পরে সেই কর্মসূচি নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তারইমধ্যে ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউসার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের সামনে গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আধিকারিকরা জানান, অভিযুক্ত সেখানে হেঁটে এসে একটি মোড়ে থামে একটি হ্যান্ডগান বের করে গুলি চালাতে শুরু করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথায় গুলিবিদ্ধ ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেলও ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এই মুহূর্তে তদন্তের পরই জানা যাবে।