ওয়াকফ সংশোধনীকে সমর্থন আজমির শরিফের অল ইন্ডিয়া সুফি সাজ্জাদানশিন পরিষদের সভাপতি নাসিরুদ্দিন চিশতির। তাঁর দাবি, ওয়াকফ বোর্ডকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, আজ ওয়াকফ সংশোধনীর প্রতিবাদে নমাজ আদায় করা মুসলিমদের হাতে কালো ব্যান্ড পরার আহ্বান জানিয়েছিল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড। সেই মতো দিল্লির জামা মসজিদ সহ দেশের বহু জায়গায় কালো ব্যান্ড পরে ইদের নমাজ পড়তে দেখা যায় মানুষজনকে। এই সবের মাঝেই আজমির শরিফের নাসিরুদ্দিন চিশতি ওয়াকফ সংশোধনী নিয়ে যেন কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘ইদি’ দিলেন।
ইদের নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আজমির দরগার আধ্যাত্মিক প্রধানের উত্তরসূরি সৈয়দ নাসিরুদ্দিন চিশতি সরকারের ওয়াকফ সংশোধনী সংক্রান্ত পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনার পর এটা করা হয়েছে। বিরোধিতা, সহমত ও দ্বিমত পোষণ গণতন্ত্রের অংশ। সাংবিধানিক উপায়ে কেউ যদি বিরোধিতা করে, তাতে কোনও সমস্যা নেই। তবে ওয়াকফের ক্ষেত্রে আমি মনে করি ওয়াকফ সংশোধন করা দরকার। এই সংশোধনীর ফলে মসজিদ, কবরস্থান সরানো হবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটা ভুল। সরকার খুব শান্তভাবে বিলটি এনেছিল। তা পাঠানো হয়েছে জেসিপিতে। জেসিপি সবার কথা শুনেছে। তার পরেই এবার বিল পেশ করা হবে।’
আমি আন্তরিকভাবে আশা করি সংশোধনীর পর ওয়াকফে স্বচ্ছতা আসবে। ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা করা হবে। ওয়াকফের যে সম্পত্তি ইতোমধ্যে দখল হয়ে গিয়েছে তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ভাড়া বাড়বে যা কমিউনিটির কাজে লাগবে। যারা বলছে, এটা শরিয়তের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। না, ওয়াকফ ইস্যু আলাদা। ওয়াকফ পরিচালনার জন্য ১৯৫৪ সালে একটি আইন আনা হয়। এর মধ্যে সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। একজন সিইও আছেন, একজন চেয়ারম্যান আছেন, সদস্য আছেন। এর কার্যকারিতা পরিবর্তন কে তা আরও কার্যকর করা হচ্ছে।’
এরপর তিনি আরও বলেন, ‘এটা সৌভাগ্য যে আমরা ভারতের মতো দেশে বাস করছি, এখানে জন্মেছি। আমরা এ দেশের নাগরিক। এখানেই দেখা যাবে, একদিন ইদ হয় তো পরদিন নবরাত্রি উদযাপিত হয়। উৎসবে সারা দেশের মানুষ একে অপরকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। এটাই আমাদের দেশের শক্তি।’ ‘সওগাত-ই-মোদী’ উদ্যোগের প্রশংসা করে চিশতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২২ লাখ মুসলিমকে উপহার দিয়েছেন মোদি। তাদের আশীর্বাদ পাবেন তিনি।’